বিশ্বের খবর
দেশ ছাড়ছেন নেপালের শীর্ষ নেতারা? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রহস্য ও গুঞ্জন
ডিজিটাল ডেস্কঃ হিংসাত্মক বিক্ষোভে বিধ্বস্ত নেপাল (Nepal) থেকে ভাইরাল (Viral) হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে (Social Media)। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একদল মানুষ একটি সেনা হেলিকপ্টারের (Helicopter) দড়ি ধরে ঝুলে কোনওভাবে পালিয়ে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই দাবি করছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা নেপালের পদত্যাগী মন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য।
সাম্প্রতিক সময়ে নেপালে সাময়িকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। এর জেরেই সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (KP Sharma Oli) পদত্যাগে বাধ্য হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিকে কেন্দ্র করে দাবি করা হচ্ছে, ওলি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা দেশ ছাড়ছেন।
Politicians escaping the wrath of the people in Nepal
God when?— NeZZar (@lagos_fineboy) September 10, 2025
তবে এখনো পর্যন্ত ওই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই হয়নি। অন্য একটি ভিডিওতেও দাবি করা হয়েছিল যে পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে গেছেন। যদিও সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে কেপি শর্মা ওলি অবস্থান করছেন নেপাল সেনার শিবপুরি ব্যারাকে। সেখান থেকেই দলের সাধারণ সম্পাদককে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, “আমি যদি লিপুলেখ (Lipulekh) ইস্যুতে প্রশ্ন না তুলতাম, তাহলে এখনও ক্ষমতায় থাকতে পারতাম।” তিনি আরও দাবি করেন, ভগবান রাম ও অযোধ্যা (Ayodhya) নিয়ে তাঁর অবস্থানই তাঁর রাজনৈতিক ক্ষতির অন্যতম কারণ।
নেপালের সাম্প্রতিক বিদ্রোহে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন, আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জারি রয়েছে কার্ফু (Curfew)। যদিও সেনাবাহিনী দিনে ও রাতে ২ ঘণ্টার করে শিথিলতা দিচ্ছে। সেনাপ্রধান স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছেন, বিক্ষোভের নামে কোনও ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর, লুটপাট বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি (Sushila Karki)। ভার্চুয়াল (Virtual) বৈঠকে হওয়া ভোটাভুটিতে তিনি পেয়েছেন ৩১ শতাংশ সমর্থন। খুব অল্প ব্যবধানে তিনি এগিয়ে গিয়েছেন কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহর (Balen Shah) থেকে, যিনি পেয়েছেন ২৭ শতাংশ ভোট।
সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। শুরুতে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেয়, পরে গুলি চালানো হয়, যার ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


