ডিজিটাল ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাশে থাকাই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই সোমবার সকালে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে শুরু হল ‘জনতার দরবার’ (Janatar Darbar) কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)।
সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ের বাইরে মানুষের দীর্ঘ ভিড় চোখে পড়ে। নিজেদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাতে বহু মানুষ সেখানে হাজির হন। কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের কক্ষের বাইরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর মতে, ক্যামেরার সামনে অনেকেই নিজেদের সমস্যার কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। নবান্ন সূত্রে আগে জানা গিয়েছিল জুন মাস থেকে এই কর্মসূচি শুরু হতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ১৮ মে থেকেই চালু হয়ে গেল ‘জনতার দরবার’। সপ্তাহে এক বা দু’দিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি মানুষের অভিযোগ শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘জনতার দরবার’ এবং ওড়িশার ‘জনশুনানি’র ধাঁচেই বাংলায় এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
Advertisement
এদিন জনতার দরবারে চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার কথাও শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি নবান্নে মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে রওনা দেন। আজকের বৈঠকে আর জি কর কাণ্ড, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন (Pay Commission) এবং সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) চালু, সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার সরকারি কর্মচারীদের নজর ডিএ এবং নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই।