দেশের খবর
মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের পরিস্থিতি! জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের জ্বালানি (Energy) নিরাপত্তার উপর কতটা পড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখতে সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil), এলপিজি (LPG), এলএনজি (LNG) এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, চলতি রবি ও আগামী খরিফ মরশুমের জন্য পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। অভ্যন্তরীণ পিএনজি (PNG) উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যে কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব মন্ত্রক প্রস্তুত রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির প্রায় ৬০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করে। এই আমদানির প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে পরিবহণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় কেন্দ্র বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইরানের (Iran) সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে এবং কেশম দ্বীপ (Qeshm Island) ও বুশেহর (Bushehr)-এ হামলার খবর মিলেছে। যদিও হতাহতের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও নাগরিকদের স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির বার্তা দেওয়া হয়েছে।
