ধর্ম
ডেনমার্ককে পাকিস্থান হতে দেব না! দেশজুড়ে আজান নিষিদ্ধের প্রস্তুতি ডেনিশ সরকারের
ডিজিটাল ডেস্কঃ ইউরোপে (Europe) অভিবাসন (Immigration) ও একীভূতকরণ (Integration) নীতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ডেনমার্কে (Denmark) লাউডস্পিকারে (Loudspeaker) আজান (Azaan) সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব। দেশটির অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ (Morten Bodskov) জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টির আইনি দিক (Legal Review) খতিয়ে দেখছে এবং ভবিষ্যতে দেশজুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রীর দাবি, ডেনমার্কের কিছু এলাকায় ইসলামি প্রভাব (Islamisation) ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনপরিসরে (Public Space) আজানের শব্দ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর বক্তব্য, ডেনমার্কের মানুষ যেন নিজেদের দেশে থেকেও অন্য কোনও দেশের পরিবেশ অনুভব না করেন।
প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের (Mette Frederiksen) নেতৃত্বাধীন সরকার ইতিমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে। এর আগে জনসমক্ষে মুখ ঢাকা পোশাক (Burqa/Niqab) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (Educational Institutions) প্রেয়ার রুম (Prayer Room) বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
তবে আজান নিষিদ্ধের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ঘিরে মানবাধিকার (Human Rights) সংগঠনগুলির উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের দাবি, এমন সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা (Religious Freedom) ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। অন্যদিকে সরকারের সমর্থকদের মতে, এটি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়; বরং জনপরিসরে শব্দ নিয়ন্ত্রণ (Noise Regulation) এবং দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় (Cultural Identity) রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২০ ও ২০২৫ সালে একই ধরনের প্রস্তাব সামনে এলেও তা সংসদ (Parliament) পর্যন্ত পৌঁছায়নি। বর্তমানে কোপেনহেগেন (Copenhagen)-সহ কয়েকটি এলাকায় শব্দদূষণ আইনের কারণে লাউডস্পিকারে আজান সম্প্রচারে আগেই বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হলে সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনা করেই সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
