দুর্ঘটনা
তৃণমূলের পাপের ফল তারাতলা বিপর্যয়! ফিরহাদের সই দেখিয়ে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ডিজিটাল ডেস্কঃ তারাতলার (Taratala) নির্মীয়মাণ গুদাম (Godown) ধসের ঘটনায় বিধানসভায় বিস্ফোরক বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত ওই বিল্ডিং প্ল্যানে (Building Plan) তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই ছিল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “কাউকে ছাড়া হবে না। যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাতলার পাঁচতলা গুদাম ধসে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জন চিকিৎসাধীন। মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা ও আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা (Compensation) ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কলকাতা পুরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নির্মলেন্দু সর্দার এবং এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রঞ্জন দাসের সইও ওই অনুমোদনপত্রে রয়েছে। তাঁর দাবি, নকশাতেই (Design) ত্রুটি ছিল, তা সত্ত্বেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুপারভাইজার, ফেব্রিকেটর (Fabricator), জমির লিজধারী, শ্রমিক সরবরাহকারী (Labour Supplier) এবং প্ল্যান অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত এক দালাল।
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থের বিনিময়ে বহু বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল। তাই সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পের অডিট (Audit) না হওয়া পর্যন্ত কোনও কাজ করতে দেওয়া হবে না। গলদ ধরা পড়লে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং দায়ীদের জেলও হতে পারে।
এদিন তিনি আরও ঘোষণা করেন, আগামী চার সপ্তাহ কলকাতা পুরসভা, রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সোনারপুর ও বারুইপুর-সহ একাধিক এলাকায় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে।
ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (Additional Chief Secretary) রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি (Committee) গঠন করা হয়েছে। আইআইটি খড়্গপুরের (IIT Kharagpur) বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সব বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
