আড়াই বছর কোমায়,খরচ ৪ কোটির ওপড়ে! তবুও হরিশ রানার মতো ‘নিষ্কৃতি মৃ/ত্যু’ চায় না দীক্ষিত পরিবার
Connect with us

ভাইরাল খবর

আড়াই বছর কোমায়,খরচ ৪ কোটির ওপড়ে! তবুও হরিশ রানার মতো ‘নিষ্কৃতি মৃ/ত্যু’ চায় না দীক্ষিত পরিবার

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে ঝুলে থাকা এক শরীর—আর সেই শরীরকে ঘিরে লড়াই এক মধ্যবিত্ত পরিবারের। মুম্বইয়ের (Mumbai) ৩৫ বছর বয়সী আনন্দ দীক্ষিত (Anand Dixit) গত আড়াই বছর ধরে ‘স্থায়ী অচেতন অবস্থা’ বা পারসিসটেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট (Persistent Vegetative State – PVS)-এ রয়েছেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা হরিশ রানার (Harish Rana) ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’ (Passive Euthanasia) বা নিষ্কৃতি মৃত্যুতে সায় দিলেও, সেই পথে হাঁটতে নারাজ দীক্ষিত পরিবার। তাঁদের কাছে আনন্দ কেবল এক শরীর নয়, এক জীবন্ত আশা।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে (Gorakhpur) পছন্দের নতুন স্কুটার (Scooter) নিয়ে বেরিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন আনন্দ। সেই থেকে তিনি অচেতন। বর্তমানে টিউবের (Tube) মাধ্যমে খাবার এবং মেশিনের (Machine) সাহায্যে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। গত আড়াই বছরে চিকিৎসার খরচ (Medical Expenses) ৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সঞ্চয় শেষ করে, জমি বিক্রি করে লড়ছেন বৃদ্ধ বাবা-মা। এর মধ্যেই মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো বিএমসি (BMC) আইনি জটিলতায় তাঁদের একমাত্র বাড়িটি ভেঙে দেয়। বর্তমানে এই সর্বস্বান্ত পরিবারটি ভাড়া বাড়িতে থেকে ছেলের সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, কেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স (Care Health Insurance) কোম্পানি তাঁদের বৈধ বিমা দাবি (Medical Claim) মেটাতে অস্বীকার করেছে, যার ফলে আরও ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা চেপেছে। তবুও মা যত্নে গুছিয়ে রেখেছেন ছেলের ঘড়ি ও মোবাইল—যদি কোনওদিন মিরাকেল (Miracle) ঘটে! বাবা ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়েও প্রার্থনা করেন, ছেলে অন্তত একবার ‘মা-বাবা’ বলে ডাকুক। দেশের আইন যেখানে ‘সম্মানজনক বিদায়ে’র (Dignified Exit) অধিকার দেয়, সেখানে এই পরিবার প্রমাণ করছে ভালোবাসার টানে মানুষ কতটা অসম্ভব লড়াই লড়তে পারে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement