উত্তর দিনাজপুর
উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে শেষ হলো ২০২৬-এর জলজ পাখি গণনা: নজর কাড়ল বৈচিত্র্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে বিস্তৃত রায়গঞ্জ বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০২৬ সালের বার্ষিক জলজ পাখি গণনার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিভাগীয় বন আধিকারিক (DFO) ভূপেন বিশ্বকর্মার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবছর পাখির বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো হলেও মোট সংখ্যার ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
এই বিশাল জনশুমারি অভিযানে রায়গঞ্জ বিভাগের অধীনে মোট ৩৯টি জলাভূমি পরিদর্শন করা হয়েছে। এই অভিযানে বনবিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (NGO) ও স্বতন্ত্র পক্ষীপ্রেমীরা। মোট ৩১ জন অভিজ্ঞ প্রতিনিধি এই গণনায় অংশ নেন।
চোপড়া, করণদিঘি, রায়গঞ্জ, কুলিক, কুশমণ্ডি এবং বালুরঘাট—এই ছয়টি রেঞ্জের অধীনে থাকা জলাশয়গুলিতে সমীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে দুই দিনাজপুরের প্রধান জলাভূমিগুলি ছিল বিশেষ নজরে:
দক্ষিণ দিনাজপুর: তপন দিঘি, আত্রেয়ী নদী, মালিয়ান দিঘি, করন বিল, মহিপাল দিঘি ইত্যাদি।
উত্তর দিনাজপুর: ধামজা, নওদা বিল, বাহিন, দ্বীপনগর, হিহরি বিল ইত্যাদি।
এবারের গণনায় মোট ৮৬টি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। সর্বমোট ৩২,২৭৫টি জলজ পাখি গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রজাতিগুলি হলো:
লেসার হুইসলিং ডাক (সরাল): ২৮,০৭২টি
গ্রে হেডেড ল্যাপউইং (মেটেমাথা টিটি): ৫১৫টি
গ্রিন উইংড টিল (পাতি তিলিহাঁস): ৫০০টি
গ্রে ল্যাগ গুজ (রাজহাঁস): ৩০০টি
তুলনামূলক চিত্র ও বনবিভাগের পর্যবেক্ষণ
বিভাগীয় বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর পাখির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত বছর মোট ৩৪,২৭৬টি পাখি গণনা করা হয়েছিল, যা এবছরের তুলনায় ২,০০১টি বেশি। পরিবেশগত পরিবর্তন নাকি অন্য কোনো কারণ এর পিছনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা রায়গঞ্জের জীববৈচিত্র্যকে যে আবারও সমৃদ্ধ করেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
