ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন এলাকায় একটি গাড়িতে বিস্ফোরণের (blast) ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আতঙ্কিত পারদর্শিতা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (intelligence agencies) দাবি—জইশ‑এ‑মহম্মদ (JeM) ও আনসার ঘাজোয়াত‑উল‑হিন্দ (AGuH)-এর সঙ্গে যুক্ত এক সেলে ৬ ডিসেম্বরে (৬ December) একাধিক স্থানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ (serial blasts) ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল।
প্রাথমিক জবানবন্দিতে জানা গেছে, ওই সেলের পরিকল্পনা ছিল পাঁচ ধাপে:
-
ধাপ ১: জইশ ও আনসার সঙ্গী সেল গঠন।
-
ধাপ ২: হরিয়ানা-র নুহ ও গুরুগ্রাম অঞ্চলে IED তৈরির রসায়নীয় উপাদান, বিস্ফোরক ও কার্তুজ সংগ্রহ।
-
ধাপ ৩: রাসায়নিক IED বানানো এবং সম্ভাব্য হামলার জায়গা রিকি করা।
-
ধাপ ৪: প্রস্তুত বোমাগুলি সদস্যদের হাতে বিলি।
-
ধাপ ৫: একসঙ্গে ৬–৭ জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো।
প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল এই হামলা আগস্ট মাসে চালানো। কিন্তু প্রস্তুতির কারণে সময় বাড়িয়ে ৬ ডিসেম্বরে ধাওয়া বেছে নেওয়া হয়—যে দিন ছিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তি। তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণ ঘটেছে গাড়িতে—চালক ছিলেন কাশ্মীরের ডাক্তার উমর উন‑নবি (Umar un-Nabi), যিনি আল‑ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University), ফরিদাবাদের শিক্ষক। ঘটনাস্থলে এখনও পর্যন্ত ১৩ জন মারা গেছেন, এবং অনেকে আহত রয়েছেন। ফরিদাবাদের রেইডে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক (সম্ভবত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) এবং গ্রেফতার হয়েছেন ডাক্তার মুজাম্মিল শেখ ও শাহিন সইদ। দাবি করা হচ্ছে, গঠন করা হয়েছিল উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের নিয়ে নতুন একটি সিক্রেট মডিউল, যেটি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর পরিকল্পনায় নিয়োজিত ছিল।
তদন্তকারীরা বলছেন, গোটা নেটওয়ার্কে কারা সরাসরি যুক্ত—কারা লজিস্টিক বা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে, তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। সুত্র বলছে, ওই গাড়িতে উমরই হয়তো গাড়ি বোমা (vehicle-borne bomb) চালিয়ে হামলা চালিয়েছেন যখন অংশীদাররা গ্রেফতার হন। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য সতর্কতা স্বরূপ—নতুন ধরনের সাদা-কলার সন্ত্রাস (white-collar terror) এবং লেখা-পড়া মানুষের মধ্যকার র্যাডিকালাইজেশনের (radicalisation) চিত্র এখানে স্পষ্ট।