ভারতের নতুন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সূর্য কান্ত, জানুন তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প
Connect with us

দেশের খবর

ভারতের নতুন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সূর্য কান্ত, জানুন তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প

বিচারপতি সূর্য কান্ত হচ্ছেন ভারতের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি। ২৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। হরিয়ানার পেটওয়ার গ্রামের সাধারণ জীবন থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত তাঁর অসাধারণ যাত্রা অনুপ্রেরণার প্রতীক।

Dipa Chakraborty

Published

on

নয়াদিল্লি: ভারতের বিচারব্যবস্থায় (Judiciary System) নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। দেশের ৫৩তম প্রধান বিচারপতি (Chief Justice of India) হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত (Justice Surya Kant)। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি (Notification) জারি করেছে।

বর্তমান প্রধান বিচারপতি ভূষণ আর গাভাই (CJI Bhushan R. Gavai)-এর অবসরের পর ২৪ নভেম্বর শপথ নেবেন বিচারপতি কান্ত। তিনি প্রায় ১৪ মাসের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ অবসর নেবেন।

প্রধান বিচারপতি গাভাই তাঁকে “সব দিক থেকেই নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য উপযুক্ত ও যোগ্য (Competent and Capable Leader)” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “বিচারপতি কান্তের অভিজ্ঞতা তাঁকে সেই সংবেদনশীলতা দিয়েছে, যা মানুষের কষ্ট ও অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থাকে আরও মানবিক করে তুলবে।”

হরিয়ানার একটি ছোট গ্রাম পেটওয়ার (Petwar) থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর যাত্রা। শিক্ষক পিতার সন্তান সূর্য কান্ত প্রথম শহর দেখেন দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার সময় হানসি (Hansi)-তে গিয়ে। ১৯৬২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

Advertisement
ads

১৯৮৪ সালে এমডিইউ (MDU) থেকে এলএলবি (LLB) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং হিসার (Hisar) জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে চণ্ডীগড় (Chandigarh)-এ এসে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে (Punjab & Haryana High Court) অনুশীলন শুরু করেন।

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে হরিয়ানার অ্যাডভোকেট জেনারেল (Advocate General) হন তিনি—রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী পদাধিকারী। ২০০৪ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে বিচারপতি পদে নিয়োগ পান। এরপর ২০১১ সালে কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় (Kurukshetra University) থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

চণ্ডীগড় হাইকোর্টে ১৪ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক (Landmark) রায় দেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • কারাবন্দিদের তাঁদের স্বামী/স্ত্রীর (Spouse) সঙ্গে দেখা করার অধিকার,

  • সন্তান জন্মদানের জন্য কৃত্রিম গর্ভধারণ (Artificial Insemination)-এর অনুমতি,

  • দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্তের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা।

২০১৭ সালে ডেরা সাচ্চা সৌদা (Dera Sacha Sauda) মামলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সৃষ্ট হিংসার ঘটনায়, তিনি ডেরাকে স্যানিটাইজ (Sanitize) করার নির্দেশ দেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেন।

Advertisement
ads

হিমাচলপ্রদেশ (Himachal Pradesh) হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিচারব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দেন। তিনি বারবার বলেছেন—“মৌলিক সুযোগ-সুবিধা (Basic Facilities) সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত জীবনের মৌলিক অধিকারের অংশ।”

সুপ্রিম কোর্টে তাঁর রায়গুলো বিচারবোধ, সংবেদনশীলতা ও ন্যায়ের ভারসাম্যের জন্য প্রশংসিত। সমাজের নীচুতলার মানুষের অধিকারের প্রতি তাঁর সহানুভূতিই তাঁকে বিচারপতি পদে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

Continue Reading
Advertisement