বিশ্বের খবর
সিন্ধুর জলে ৪০ বছর পর লাহোরে ভয়াবহ বন্যা – পাকিস্তানের পাঞ্জাবে মৃত ২২ জন
ভয়াবহ বন্যায় (Flood) বিপর্যস্ত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ (Punjab Province)। সিন্ধু নদী (Indus River) ও তার উপনদীগুলির জলে ডুবে গিয়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এমনকি ৪০ বছর পর বন্যার কোপে পড়ল লাহোর (Lahore)। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ভারত থেকে ছাড়ানো জলকেও দায়ী করছে পাকিস্তানের একাংশ। তাঁদের দাবি, সিন্ধুর জল ছাড়ার ফলে পূর্বাঞ্চলের শতদ্রু (Sutlej), ইরাবতী (Ravi) ও চন্দ্রভাগা (Chenab) নদীর প্রবাহ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লাহোরের ডেপুটি কমিশনার সৈয়দ মুসা রাজা বলেন, “৩৮ বছর পর এই প্রথম লাহোরে এমন বন্যা দেখা গেল। ১৯৮৮ সালের পর এটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।” তিনি জানান, রবিবার সকালে ইরাবতীতে জলের প্রবাহ দাঁড়ায় ২ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক (Cusec), যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
বন্যায় ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের প্রায় ১৭০০ গ্রাম ডুবে গিয়েছে। এর মধ্যে শিখদের পবিত্র তীর্থ কর্তারপুর (Kartarpur Sahib)ও রেহাই পায়নি। কর্তারপুর সাহেব মসজিদ চত্বর জলে ভেসে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media)।
এর আগে পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে “জল অস্ত্র” (Water Weapon) ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্য, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিবেশী সহযোগিতার বদলে ভারত হঠাৎ অতিরিক্ত জল ছেড়ে আমাদের বিপর্যস্ত করছে।” তবে ভারতীয় সূত্রের খবর, প্রতিবার জল ছাড়ার আগে পাকিস্তানকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে (Pahalgam) জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Water Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও সূত্র বলছে, জল ছাড়ার আগাম বার্তা এবারও দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো পাকিস্তান প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। চলছে ব্যাপক উদ্ধারকাজ।
সরকারি রিপোর্ট বলছে, শুধু পাঞ্জাব নয়, গোটা পাকিস্তান জুড়েই বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে (Natural Disaster) মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে।


