আন্তর্জাতিক খেলার টিকিট পেয়েও চিন্তায় উত্তর দিনাজপুরের সাগর, খরচ জোগাতে হিমশিম পরিবার
Connect with us

উত্তর দিনাজপুর

আন্তর্জাতিক খেলার টিকিট পেয়েও চিন্তায় উত্তর দিনাজপুরের সাগর, খরচ জোগাতে হিমশিম পরিবার

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ খেলাধুলো যে শুধু শহরের একচেটিয়া অধিকার নয়, তা আবারও প্রমাণ করলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের উঠতি কিকবক্সার সাগর বাউড়ি (Sagar Bauri)। একদিকে আর্থিক অনটন, অন্যদিকে পরিবারের অজ্ঞতা—সব বাধা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ মিলেছে সাগরের। তবে বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাড় করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

চাকুলিয়ার সাহাপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের আমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাগরের বাবা কালঠুলাল বাউড়ি পেশায় একজন কৃষক এবং মা রীণা বাউড়ি একজন অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা। সীমিত আয়, তিন সন্তানের পড়াশোনা, এবং সংসারের চাপের মাঝে ছেলের কিকবক্সিং প্রতিভা প্রায় নজর এড়িয়ে গিয়েছিল পরিবারের। বাবা-মা জানতেন ছেলে খেলাধুলো করে, কিন্তু Kickboxing যে আন্তর্জাতিক স্তরের খেলা, তার প্রস্তুতি ও সুযোগ কতটা মূল্যবান, তা তারা তখনও বুঝে উঠতে পারেননি।

তবে সাগরের প্রতিভা থেমে থাকেনি। স্থানীয় মিশনারি স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি কিকবক্সিংয়ে হাতেখড়ি। জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে একের পর এক সাফল্যের পরে, এবার সুযোগ এসেছে WAKO World Senior Kickboxing Championship-এ অংশ নেওয়ার। আগামী নভেম্বর মাসে আবুধাবিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় দল গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাগরও সেই নির্বাচিত খেলোয়াড়দের একজন।

আরও পড়ুনঃ অমিত শাহকে খুনের অভিযুক্ত বলার পরিণতি! ৭ বছর পর জামিনে রাহুল গান্ধী

Advertisement
ads

বর্তমানে শিলিগুড়ির বীরসা মুন্ডা কলেজের স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাগর। সে পশ্চিমবঙ্গ কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের তালিকাভুক্ত ক্রীড়াবিদ হিসেবেও স্বীকৃত। কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে গেলে প্রয়োজন একটি বড় অঙ্কের অর্থ। সরকারিভাবে এমন কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্প নেই যা ব্যক্তিগতভাবে এমন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খরচ বহনে সাহায্য করে। ফলে, স্পনসরশিপ বা সাধারণ মানুষের সহায়তাই একমাত্র ভরসা সাগরের কাছে।

অসহায় বাবা-মা এখনও ছেলের প্রতিযোগিতার খুঁটিনাটি বুঝে উঠতে না পারলেও, তার পুরস্কার, সনদ আর ট্রফিগুলি দেখেই গর্বে বুক ভরে যায়। মা রীণা বাউড়ি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সব বাধা পেরিয়ে ও আজ এখানে পৌঁছেছে, যদি কোনওভাবে সবাই সাহায্য করেন, তাহলে সাগরের স্বপ্ন সত্যি হবে।”

সাগরের এই অনন্য সাফল্যে গর্বিত গোটা চাকুলিয়া। স্থানীয় বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদ (Minhajul Arfin Azad) জানিয়েছেন, “সাগরের সাফল্য শুধু তার নয়, আমাদের এলাকারও। ও যাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে, সেই চেষ্টা আমি করব।”

সাগরের এই লড়াই শুধু একজন খেলোয়াড়ের নয়, বরং গ্রামীণ ভারতের একটি প্রতিভার আন্তর্জাতিক উড়ানের গল্প। এখন তার স্বপ্ন পূরণের জন্য দরকার আমাদের সবার সহানুভূতি ও সহায়তা।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement