রাজনীতি
তৃণমূলের বড় রদবদল: রাজ্য সহ সভাপতির দায়িত্ব পেলেন শংকর মালাকার
ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) জেলা এবং রাজ্য সংগঠনে ফের বড়সড় রদবদল। সোমবার প্রকাশিত তৃণমূলের (Trinamool Congress) নয়া বিজ্ঞপ্তিতে বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান এবং সভাপতির নাম ঘোষণা করা হল। পাশাপাশি, রাজ্য মাদার কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন একাধিক নেতা। রাজ্য সংগঠনে সহ সভাপতির পদ দেওয়া হল সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা শংকর মালাকার (Shankar Malakar)-কে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন ফুরফুরার পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকি (Qasem Siddiqui)। সবমিলিয়ে এই বদলে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—দলের সংগঠনে নতুন ছাপ ফেলতে চাইছে শাসকদল।
বারাসতের দায়িত্বে সব্যসাচী (Sabyasachi Dutta)
তৃণমূলের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান হলেন সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। আগে এই পদে ছিলেন হাবড়ার তৃণমূল নেত্রী রত্না বিশ্বাস (Ratna Biswas)। তবে জেলা সভাপতির পদে কোনও বদল হয়নি। পুরনো দায়িত্বেই থাকছেন সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)।
এই রদবদলের ফলে সব্যসাচীর সংগঠনিক গুরুত্ব ফের একবার বাড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বড় দায়িত্ব শংকর ও কাসেমের
সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া দার্জিলিংয়ের প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা শংকর মালাকার (Shankar Malakar) পেয়েছেন রাজ্য সহ সভাপতির পদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি আস্থা রেখে গত সপ্তাহেই তিনি ঘাসফুল শিবিরে এসেছিলেন। শংকরবাবুকে প্রাথমিকভাবে উত্তরবঙ্গের কোনও জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জল্পনা ছিল, তবে রাজ্য স্তরে তাঁর এই পদোন্নতি তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে, রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফুরফুরার পীরজাদা কাসেম সিদ্দিকি (Qasem Siddiqui)-কে। কিছুদিন আগে ইফতারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গিয়েছিল কাসেমকে। তখন থেকেই তাঁর উত্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এবার সেই জল্পনা সত্যি হল।
সম্প্রতি আরও বদল
এর আগেই তৃণমূল নেতৃত্ব উত্তর কলকাতা ও বীরভূম জেলা সংগঠনে বড় রদবদল করেছিল। বীরভূমে কোর কমিটির হাতেই পুরো সংগঠন তুলে দেওয়া হয়েছে। কোর কমিটিতে রাখা হয়েছে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৭ জনকে। উত্তর কলকাতাতেও গঠন করা হয়েছে ৯ সদস্যের কোর কমিটি।
দলীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) আগেই বলেছিলেন, “যাঁরা পরিশ্রম করেছেন, যোগ্যতা দেখিয়েছেন, তাঁদেরই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।”
তবে এই সাংগঠনিক বদল শুধুই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, নাকি রাজ্যের আগামী ভোটের পরিকল্পনার অংশ—এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
