খেলার খবর
আরসিবি উদযাপনেই মৃত্যু মিছিল! মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্ক: গত ৪ জুন বেঙ্গালুরুর চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামের সামনে আরসিবি-র (RCB) আইপিএল জয় উদযাপনে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর এবার সরাসরি গাফিলতির অভিযোগ উঠল কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার (Siddaramaiah) বিরুদ্ধে। শনিবার রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলটের (Thawar Chand Gehlot) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে, যেখানে সিদ্দারামাইয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারী গিরিশ কুমার, যিনি বেঙ্গালুরুর কোট্টিগেপালিয়ার বাসিন্দা, রাজ্যপালের কাছে পাঠানো চিঠিতে দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এই বিশাল জমায়েতে অংশ নিতে। অথচ সেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের কোনও সুব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একটি বেসরকারি ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজির (RCB) বিজয়কে রাজ্য সরকার এতটা গুরুত্ব দিয়ে ‘গ্র্যান্ড রিসেপশন’ আয়োজন করল কেন? গিরিশের বক্তব্য, আইপিএল কোনও জাতীয় গর্ব নয়, বরং এটি একটি বাণিজ্যিক খেলা, যেখানে খেলোয়াড়রা অর্থের বিনিময়ে খেলে থাকে। অথচ সেই উপলক্ষে এত বড় জনসমাবেশ করে সরকার যে প্রচ্ছন্ন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর অভিযোগ, এই ধরণের গণউৎসব বরং দেশের জন্য পদকজয়ী অলিম্পিক অ্যাথলিট বা সেনানায়কদের সম্মানে হওয়া উচিত ছিল।
আরও পড়ুনঃ কাকদ্বীপে ফের বাংলাদেশি ভোটার বিতর্ক, ঘিরে উত্তাপ রাজনীতিতে
এছাড়াও, কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার (D.K. Shivakumar) বিমানবন্দরে আরসিবি দলের সংবর্ধনায় অংশ নেওয়াতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গিরিশ। তাঁর অভিযোগ, সরকার শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা কুড়োতেই জনজীবনের নিরাপত্তা উপেক্ষা করেছে।
এদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জন মাইকেল কুনহা (John Michael Cunha)-র নেতৃত্বে এক সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনকে এই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে বলা হয়েছে।
বিজেপি এই ইস্যুতে শাসক দল কংগ্রেসকে চেপে ধরেছে। বিজেপি নেত্রী তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে (Shobha Karandlaje) এক কড়া মন্তব্যে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর হাতে রক্ত লেগে আছে। সন্তান হারানো বাবা-মায়েরা তাঁদের অভিশাপ দিচ্ছেন।” তাঁর আরও অভিযোগ, সরকার নিজেদের দায় ঢাকতে পুলিশ প্রশাসনের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাইছে।
বিরোধীদের মতে, এই দুর্ঘটনা শুধুমাত্র অব্যবস্থাপনার ফল নয়, বরং সরকারের অতি উৎসাহী রাজনৈতিক প্রচারের ট্র্যাজেডিতে রূপ নিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থামার কোনও লক্ষণ নেই।
