হামলা
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ শক্তি, কেঁপে উঠল পাক মাটি
ডিজিটাল ডেস্কঃ পহেলগাম (Pahalgam) হামলার নির্মমতা যেন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২৬ জন নিরীহ মানুষ—যাঁদের অনেকেই ছিলেন পর্যটক—জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারানোর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিশোধের দাবি উঠছিল। এবার সেই দাবিরই বাস্তব রূপ দিল ভারত। দেশের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এ পাকিস্তান (Pakistan) ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) জঙ্গি ঘাঁটিতে একযোগে আঘাত হানল ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী (Navy) এবং বায়ুসেনা (Air Force)।
সেনাবাহিনীর (Indian Army) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান শুরু হয় মঙ্গলবার মাঝরাতে, রাত ১টা ৪৪ মিনিটে। তিন বাহিনী মিলে একযোগে ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে আঘাত হানে। টার্গেট ছিল এমন সব ঘাঁটি, যেখান থেকে ভারতে হামলার পরিকল্পনা করা হত এবং হামলার রসদ সরবরাহ করা হতো। সেনা সূত্রে খবর, এই অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘লোইটারিং অ্যামিউনিশন’ (Loitering Ammunition) বা ‘কামিকাজে ড্রোন’, যেগুলি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উপর আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়।
আরও পড়ুনঃ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জবাব দিতে মরিয়া পাকিস্তান, সীমান্তে ফের রক্ত ঝরল
সেনাবাহিনী জানায়, বাহাওয়ালপুরে (Bahawalpur) জইশ-ই-মোহাম্মদের (Jaish-e-Mohammed) সদর দফতর এবং মুরিদকেতে (Muridke) লস্কর-ই-তইবার (Lashkar-e-Taiba) ঘাঁটি ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীও তাদের নিজ নিজ প্রযুক্তি ও স্ট্রাইক অস্ত্র দিয়ে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তবে সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের কোনও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়নি। অপারেশনে লক্ষ্য নির্ধারণে ভারত যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে।
অভিযানের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দিল্লিতে বসে রাতভর অপারেশন পর্যবেক্ষণ করেন বলে সূত্রের দাবি। অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভারতীয় পদক্ষেপের পিছনে থাকা প্রেক্ষাপট ও তথ্য তিনি মার্কিন প্রশাসনকে জানান।
পহেলগামের মর্মান্তিক হামলার জবাবে ভারতের এই শক্ত প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কেড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম ভারত তিন বাহিনীকে একসঙ্গে মাঠে নামিয়ে বড়সড় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিল।
সরকারের তরফ থেকে বার্তাটা একেবারে স্পষ্ট—ভারত সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। সীমান্তের ওপার থেকে বারবার উসকানি এলে এবার একযোগে, পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর জবাব দেবে ভারত।
