বৈশাখী রোদের তাপে লাল টানের জয়—শরীর ক্ষয়, তবু ব্রিগেডে হাজির প্রত্যয়ের কমরেড
Connect with us

রাজনীতি

বৈশাখী রোদের তাপে লাল টানের জয়—শরীর ক্ষয়, তবু ব্রিগেডে হাজির প্রত্যয়ের কমরেড

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বৈশাখের খরতাপে তপ্ত শহর কলকাতা। রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শহরের বুকে আজ জমায়েত শুধুই রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে নয়—এ যেন আত্মিক টান, বিশ্বাস আর দীর্ঘদিনের এক স্নেহের বন্ধনকে দৃঢ় করার দিন। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে রবিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বামফ্রন্ট ঘনিষ্ঠ চারটি গণসংগঠনের আহ্বানে অনুষ্ঠিত হল বিশাল জনসমাবেশ।

পরিচিতির অভাব থাকলেও উৎসাহে কমতি ছিল না। সকাল থেকে ধীরে ধীরে জমে উঠতে থাকে ব্রিগেড। কর্মীদের পা ফেলা পড়তেই, লাল পতাকার ঢেউয়ে রক্তগরম আবহ তৈরি হয় সমগ্র ময়দানে। জমায়েতে নজর কাড়লেন কয়েক জন যাঁরা শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও উপস্থিত থেকে দলীয় ভাবনায় বিশ্বাস স্থাপন করলেন। হালিশহরের রবি দাস, জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী, হুইলচেয়ারে ভর করে পৌঁছে গেলেন ময়দানে। তাঁর কথায়, “এই দল আমার অস্তিত্ব। শরীর যতই ক্লান্ত হোক, ব্রিগেড ডাকে তো আর থাকা যায় না।” পূর্ব মেদিনীপুরের রবীন্দ্রনাথ প্রধান, যাঁর একটি পা নেই, তিনিও নির্ভর করেছেন নিজের ক্রাচের উপর। মঞ্চের সামনে বসে মন দিয়ে শুনলেন অনাদি সাহু, মহম্মদ সেলিমদের বক্তব্য।

আরও পড়ুনঃ মীনাক্ষীকে বাদ দিয়ে ব্রিগেড বার্তা, বামেদের ভিতরে গুনগুন করছে প্রশ্ন

কলকাতার শাহেনশাহ আলম—ছাত্রাবস্থা থেকে এসএফআই, পরে ডিওয়াইএফআই-এর কর্মী—বর্তমানে যক্ষ্মার মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত। যদিও সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে, তবুও ব্রিগেডে উপস্থিত থেকে ফের জানিয়ে দিলেন, “আস্থার জায়গা একটাই—বামপন্থা। শরীর থাকুক বা না থাকুক, লাল পতাকার টান চিরকাল থাকবে।”

Advertisement
ads

সমাবেশের পরেও রাজনীতির অঙ্ক বলবে সিপিএমের বর্তমান জায়গা কতটা মজবুত। তবে ব্রিগেডের এই রক্তঘন অনুভব প্রমাণ করে দেয়, রাজনীতি শুধু ক্ষমতার হিসেব নয়, আদর্শের প্রতিশ্রুতিও বটে। আর সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই বাড়ি ফিরলেন রবি, রবীন্দ্রনাথ, শাহেনশাহরা—ভবিষ্যতের পরিবর্তনের এক নীরব সম্ভাবনা সঙ্গে নিয়ে।