ধর্ম
“আগুন নিয়ে খেললে পুড়ে মরবেন—ইউনূসকে উদ্দেশ করে কড়া বার্তা হাসিনার”
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফের মুখ খুললেন প্রয়াত ছাত্রনেতা আবু সাইদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে। রবিবার রাতে, বাংলা নববর্ষ ‘পহেলা বৈশাখ’-এর প্রাক্কালে প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো বার্তায় হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন— সাইদের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে হয়নি, বরং সেটি ছিল ‘একটি গভীর ষড়যন্ত্র’। তাঁর অভিযোগ, এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রায় আট মিনিটের ওই ভিডিয়ো বার্তায় হাসিনা কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান ইউনূসের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “আবু সাইদকে পুলিশ নয়, ষড়যন্ত্রকারীরা হত্যা করেছে। সেই ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই।” তাঁর আরও দাবি, যে পুলিশ কর্মকর্তা সাইদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছিলেন, তাঁকে সরিয়ে দেন ইউনূস।
উল্লেখ্য, গত বছর জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান আবু সাইদ। জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, তাঁকে ৭.৬২ এমএম বুলেটে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা’ করা হয়েছিল। তবে হাসিনার দাবি, সেদিন পুলিশ শুধুমাত্র রাবার বুলেট ছুড়েছিল, ধাতব গুলি নয়। “যখন আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ছিল, তখনই একটি পাথরের আঘাতে সাইদের মাথায় গুরুতর চোট লাগে,”— বলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায়, বাঙালির সংস্কৃতি ধ্বংসের চেষ্টা চলছে, নববর্ষে বিস্ফোরক শেখ হাসিনা
হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, “আমি খুন করিনি, আমার দলও করেনি। বরং এই হত্যাকাণ্ড ছিল নিখুঁতভাবে সাজানো একটি ষড়যন্ত্র।” একইসঙ্গে তিনি সাইদের মরদেহ পুনরায় কবর থেকে তুলে ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি তোলেন।
শুধু সাইদের মৃত্যু নয়, ভিডিয়ো বার্তায় হাসিনা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউনূস বিদেশি শক্তির সাহায্যে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। “বিদেশ থেকে টাকা এনে দেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে,”— দাবি করেন হাসিনা। তিনি আরও বলেন, “আমি প্রতিটি জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরি করেছিলাম। আজ সেগুলিই পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইউনূস কি এর উত্তর দেবেন?” সঙ্গে হুঁশিয়ারিও দেন, “আগুন নিয়ে খেললে, আপনিও একদিন পুড়ে মরবেন।”
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর চলা দমন-পীড়নের অভিযোগও তোলেন হাসিনা। বলেন, “আমাদের দলের কারখানা, হোটেল, হাসপাতাল—সবই একে একে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে।”
প্রসঙ্গত, গণআন্দোলনের জেরে গত আগস্টে ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা। তারপর থেকেই তিনি ভারতে রয়েছেন। দিন কয়েক আগেই এক ভিডিয়ো বার্তায় জানিয়েছিলেন, “আল্লা আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, কারণ আমি বাংলাদেশে ফিরব।”
এই আবেগঘন বার্তা ও বিস্ফোরক অভিযোগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পারদ ফের চড়তে শুরু করেছে। আগামী দিনে তদন্ত নতুন দিকে মোড় নেবে কি না, সেটাই এখন দেখার।
