দেশ
দেশজুড়ে যেখানে আকাল অক্সিজেন সিলিন্ডারের, সেখানে রবিন হুড উত্তরপ্রদেশের ব্যবসায়ী
নিউজ ডেস্ক, ২৪ এপ্রিল : ক্রমশই ভয়াবহ হয়ে উঠছে করোনা পরিস্থিতি। সংক্রমণের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।
সাথে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে রোগীর৷ এই পরিস্থিতিতে অনেক জায়গাতেই কালোবাজারি হচ্ছে অক্সিজেনের। কোথাও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার প্রতি ৩০ হাজার টাকায়। এর ফলে বিপাকেও পড়েছেন করোনা রোগীরা।এই অবস্থায় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর এলাকার এক ব্যবসায়ী। বাজারে যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা সেখানেই তিনি মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে নিজের কারখানা থেকে ভরে দিচ্ছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। যারা তার কাছ থেকে প্রিয়জনের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার পেয়েছেন তারা ভগবান বলে মনে করছেন তাঁকে।উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরের সুমেরপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় রয়েছে মনোজ গুপ্তার রিমঝিম ইস্পাত ফ্যাক্টরি। গতবছরই করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন মারণ এই ভাইরাসে। আর এবার নিজেই কোভিডে আক্রান্তদের সেবায় ব্রতী হয়েছেন। জানা গিয়েছে, মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে নিজের কারখানা থেকে অক্সিজেনের সিলিন্ডার ভরতে সাহায্য করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে হাজারেরও বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার ভরা হয়েছে মনোজের কারখানা থেকে। প্রাণ বেঁচেছে কয়েকশো করোনা রোগীর।ওই ব্যবসায়ী জানান, তাঁর কারখানা দিন পিছু ১০০০টি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করার ক্ষমতা রাখে। তাই তিনি সেই মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে দিচ্ছেন সিলিন্ডার প্রতি মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে। তবে এক্ষেত্রে যাতে কেউ তাঁর বদান্যতার সুযোগ না নেয়, সেই দিকেও কড়া নজর রেখেছেন তিনি। একমাত্র করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেখালে তবেই রোগীর জন্য ১ টাকার বিনিময়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে দেওয়া হচ্ছে রিমঝিম ইস্পাত ফ্যাক্টরিতে। তার সঙ্গে যে ডাক্তারের অধীনে চিকিৎসা চলছে রোগীর, তার প্রেসক্রিপশন দেখাতে হচ্ছে। দেখাতে হচ্ছে আধার কার্ডও। পাশাপাশি একটি হেল্পলাইন নাম্বার চালু করা হয়েছে যার সাহায্যে করোনা আক্রান্তের পরিবার অক্সিজেন পেতে পারেন।
