ডিজিটাল ডেস্কঃ বিহারে ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে Election Commission। আগামী ২৫ জুলাই আবেদনের শেষ তারিখ থাকলেও, তার আগেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল কমিশন। তারা জানিয়েছে, বিহারের প্রায় ৩৫ লক্ষ ভোটার এবার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছেন।
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭.৮৯ কোটি। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬.৬ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে কমিশনের অনুমান, প্রায় ৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে।
এই বাদ যাওয়া ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন—
-
১২.৫ লক্ষ মৃত ব্যক্তি, যাঁদের নাম এখনও তালিকায় রয়েছে,
-
১৭.৫ লক্ষ যাঁরা বিহার ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন স্থায়ীভাবে,
-
এবং ৫.৫ লক্ষ ভোটার যারা বর্তমানে অস্থায়ীভাবে বিহারের বাইরে অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুনঃ বিহারে বাদ যেতে পারে ৩৫ লক্ষ ভোটার, দেশজুড়ে সমীক্ষার পরিকল্পনায় নির্বাচন কমিশন
কমিশন জানিয়েছে, ১ আগস্ট ভোটার তালিকার একটি খসড়া প্রকাশ করা হবে। তবে যাঁরা ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফর্ম পূরণ করে আবেদন করবেন, একমাত্র তাঁরাই সেই তালিকায় জায়গা পাবেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন মহুয়া মৈত্রসহ একাধিক ব্যক্তি। যদিও আগের শুনানিতে আদালত EC-র পক্ষেই মত দেয়, জানায় এই সমীক্ষা কমিশনের ‘সংবিধান স্বীকৃত অধিকার’, এবং এটি আটকানো সম্ভব নয়।
কমিশন সূত্রে খবর, ২৮ জুলাই শুধুমাত্র শীর্ষ আদালতের শুনানি নয়, সেদিন দেশজুড়ে একই ধরনের সমীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যার মূল উদ্দেশ্য, ‘অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিত’ করে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও বৈধ ভোটার চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ যে রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।