ভাইরাল খবর
স্বাস্থ্য ভবনে বিস্ফোরণের হুমকি, ইমেলে এল আইইডি-র ভয় ধরানো বার্তা
ডিজিটাল ডেস্ক: ভয় ধরানো হুমকি ইমেল (Threat Email)। উড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ‘স্বাস্থ্য ভবন’ (Swastha Bhavan)-কে। চারটি আইইডি (IED) বিস্ফোরণের আশঙ্কা জানিয়ে একটি সন্দেহজনক ইমেল পাঠানো হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর হেলথ সার্ভিসের (Deputy Director of Health Services)-এর কাছে। এই ইমেল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
ঘটনার খবর পেয়েই তৎপর হয় বিধাননগর থানার পুলিশ (Bidhannagar Police)। সোমবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে কড়া নিরাপত্তার চাদর টেনে চিরুণী তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় আগত ও বহির্গমন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজন ওই ইমেলে স্বাস্থ্য ভবনে চারটি আইইডি লাগানোর দাবি করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি একটি মিথ্যা বা ভুয়ো হুমকি (Hoax Threat)। কোনও দুষ্কৃতী হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রশাসনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের বার্তা পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ উন্মোচনে সক্রিয় ভারতের সংসদীয় প্রতিনিধি দল
তবে, পুলিশ এই বিষয়টিকে একেবারেই হালকা ভাবে নিচ্ছে না। যেহেতু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত, সেই প্রেক্ষিতেই সাইবার হামলা বা হুমকি বার্তার পিছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, “সম্প্রতি বিভিন্ন ভারতীয় সরকারি সংস্থার ইমেল আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তানের হ্যাকাররা (Pakistani Hackers)। সেই প্রেক্ষিতেই স্বাস্থ্য ভবনের হুমকি মেলের সঙ্গে সাইবার হামলার কোনও যোগ রয়েছে কিনা তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।”
পাশাপাশি, চিন (China) এবং পাকিস্তানের (Pakistan) হ্যাকাররা ভারতের বিভিন্ন সংবেদনশীল দপ্তরকে নিশানা করছে— এই সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যও উঠে এসেছিল সম্প্রতি।
এদিকে, হুমকি মেলে ব্যবহৃত ভাষা ও ফরম্যাট ঘিরে পুলিশ সন্দেহ করছে, এটির নেপথ্যে স্থানীয় কোনও ব্যক্তি থাকতে পারে। তদন্তকারীদের অনুমান, হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ভুয়ো আতঙ্ক’ তৈরি করে খবরের শিরোনামে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য ভবনের আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, বিধাননগর সাইবার শাখা (Cyber Cell) পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। মেলটির আইপি ট্র্যাক করে প্রেরকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দপ্তরের অন্য কোনও আধিকারিক বা কর্মী অনুরূপ হুমকি পেয়েছেন কিনা।
