রাজনীতি
আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পে রাজ্যজুড়ে ক্যাম্প, ৮ হাজার কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার রাজ্যজুড়ে শুরু হলো এক নতুন জনমুখী প্রকল্প — “আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান” (APAS)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষ নিজেদের এলাকার সমস্যা নিজেরাই চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করবেন এবং সেই তালিকা অনুযায়ী প্রশাসন কাজ বাস্তবায়ন করবে। মুখ্যমন্ত্রী এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, “এটা একটা অনন্য উদ্যোগ, সারা ভারতে এরকম প্রকল্প এই প্রথম।”
এই প্রকল্প রাজ্যের প্রতিটি বুথ স্তরে কার্যকর হবে। প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ জুড়ে চালু করা হবে এই প্রকল্প। তিনটি বুথ মিলে একটি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে, ফলে মোট ২৭ হাজারেরও বেশি ক্যাম্প গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ক্যাম্পে উপস্থিত থাকবেন সরকারি কর্মীরা, যারা সরাসরি মানুষের কাছ থেকে সমস্যার কথা শুনবেন। একই সঙ্গে থাকবে ‘দুয়ারে সরকার’-এর পরিষেবাও।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি বুথে ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে এই প্রকল্পে মোট ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করবে রাজ্য সরকার। প্রথম দিনেই ৬৩২টি ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রায়গঞ্জে জেলা শাসকের উপস্থিতি:
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে রায়গঞ্জে একটি শিবির পরিদর্শনে আসেন উত্তর দিনাজপুর জেলার জেলাশাসক। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হন তিনি এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
গাজোলের শাহজাদপুরে সফল সূচনা:
গাজোল ব্লকের শাহজাদপুর বাদন্যাংরা স্কুলে আয়োজিত শিবিরে ২২৩, ২২৪, ও ২২৫ নম্বর বুথ থেকে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। পাকা ড্রেন, রাস্তা, এবং পথবাতির দাবি ছিল সর্বাধিক। উপস্থিত ছিলেন বিডিও সুদীপ্ত বিশ্বাস, জয়েন্ট বিডিও সুব্রত শ্যামল, মীর সোহেল শেখাওয়াত, এবং জেলা পরিষদের সদস্য দীনেশ টুডু। কর্মকর্তারা সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
করনদীঘিতে APAS-এর সূচনা:
করনদীঘি ব্লকের করনদীঘি গ্রামপঞ্চায়েত ১ ও ২ নম্বরে এই প্রকল্পের শিবির অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলাপরিষদের সভাধিপতি পম্পা পাল, করনদীঘির বিধায়ক গৌতম পাল, বিডিও জয়ন্ত দেবব্রত চৌধুরী, ও আইসি সঞ্জয় ঘোষ। বিধায়ক গৌতম পাল জানান, সরকার মানুষের ছোটো সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে, এবং প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত মানুষকে অনুরোধ করেছেন, তাঁরা যেন নিজেদের নিকটবর্তী ক্যাম্পে গিয়ে সক্রিয়ভাবে মতামত ও অভিযোগ জানান।
