রাজনীতি
রাজনীতির রঙে রাঙা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান! কাকদ্বীপ কলেজে তৃণমূল নেতার বিয়েতে উত্তাল রাজনীতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ চাকরি কেলেঙ্কারির দাগ এখনও মুছতে পারেনি কাকদ্বীপ কলেজ (Kakdwip College)। তার মধ্যেই ফের নতুন বিতর্কে জড়াল এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অভিযোগ, কলেজ চত্বরে রীতিমতো মণ্ডপ সাজিয়ে বিয়ে সারলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রাক্তন নেতা অশোক গায়েন (Ashok Gayen)। কলেজ চত্বরে এমন ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
জানা গিয়েছে, অশোক গায়েন একসময় কাকদ্বীপ কলেজের তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা (Monturam Pakhira)-র ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মন্টুরাম আবার এই কলেজ পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাঁর মদতেই কি কলেজ চত্বরে বসেছিল বিয়ের আসর?
আরও পড়ুনঃ ভাড়াবাড়িতে রমরমিয়ে দেহ ব্যবসা! কালিয়াগঞ্জে হাতেনাতে ধরপাকড়, আটক মহিলা সহ ৩
বিয়ের ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এখনও সরকারিভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে ফুটেজে কলেজের চত্বর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই বিরোধীরা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।
রাজ্য জুড়ে যখন ছাত্ররাজনীতি, নিরাপত্তা ও বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে—তখন একটি সরকারি কলেজ চত্বরে বিয়ের অনুষ্ঠান কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কলকাতা হাইকোর্ট কিছুদিন আগেই ছাত্র ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে, কসবা কলেজ গণধর্ষণ কাণ্ডের পর। সেই আবহেই কাকদ্বীপ কলেজে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছে শিক্ষা মহল।
উল্লেখ্য, এর আগে এই কলেজেই সাত জন তৃণমূল কর্মীকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেসময়ও অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন মন্টুরাম পাখিরা। এবার কলেজ চত্বরে নেতা-কর্মীর বিয়ের আসর বসায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও ফের উঠছে প্রশ্ন।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অশোক গায়েন বা বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। স্থানীয়দের একাংশের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি রাজনৈতিক নেতাদের ‘ব্যক্তিগত মঞ্চ’ হয়ে ওঠে, তাহলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয় প্রশ্নচিহ্ন।
