ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) নামগন্ধ ছিল না। পুজোর পাঁচটা দিনও ধূর্পা গ্রামের আকাশে ছড়িয়ে থাকত বিষাদের (Melancholy) মেঘ। বাইরে যখন ঢাক, কাঁসর, আলোর রোশনাই— তখন এই গ্রাম ছিল নিঃসঙ্গ, নিস্তব্ধ। আর সেই ছবি বদলে দিয়েছে গ্রামের মহিলারা— তাঁদের হাতিয়ার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakhir Bhandar)।
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থানার অন্তর্গত ধূর্পা গ্রামের নারীরা এখন স্বনির্ভর। রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে (Social Welfare Scheme) প্রাপ্ত টাকাই তাঁদের দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও উৎসবের সাহস। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই নারীদের উদ্যোগে দুর্গাপুজো এবার তৃতীয় বর্ষে পা দিল।
মাতৃশক্তি পুজো কমিটি— এই নামেই আত্মপ্রকাশ করেছে তাঁদের সংগঠন। এখন এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ছুঁয়েছে একশো। শুধু নারী নন, এখন পাশে আছেন গ্রামবাসী পুরুষরাও। চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে মণ্ডপ বানানো— সবেতেই সক্রিয় অংশগ্রহণ।
কমিটির সম্পাদিকা শম্পা জানা জানান, “আগে আমাদের গ্রামে দুর্গাপুজো হত না। পুজোর সময়ে চারপাশে আনন্দ থাকলেও আমাদের গাঁয়ের মন ভরত না। একদিন ভাবলাম, কেন নয়? সেখান থেকেই জন্ম নিল আমাদের এই পুজো।”
প্রথম বছরে গ্রামে থাকা শতাধিক মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের এক মাসের টাকা দিয়ে পুজোর খরচ জোগাড় হয়। তারপর একে একে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাঁদা তোলা হয়। ছোট করে হলেও সেই বছর পুজোর আয়োজন সফল হয়। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগ বড় আকার নিতে শুরু করেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত তাঁরা রাজ্য সরকারের পুজো অনুদান পাননি। যদিও সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ক্লাব বা পুজো কমিটিগুলিকে এবার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, তারাও যেন সেই আর্থিক সহায়তা পান। ভবিষ্যতে পুজো আরও বড় করতে চান তাঁরা।