ভাইরাল খবর
আবার প্রকাশ্যে মারধর! এবার মমতার নিজ দলের কর্মীকে জুতোপেটা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলের পর এবার বিতর্কে বিজেপি নেত্রী মমতা দাস। প্রকাশ্য রাস্তায় বাম নেতা মারধরের ঘটনার আড়াই মাসের মধ্যেই এবার সামনে এল বিজেপির অন্দরেই সংঘর্ষের ছবি। খড়্গপুরে বিজেপি নেত্রী মমতার বিরুদ্ধে দলেরই এক কর্মীকে জুতোপেটা (Shoe-beating) করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনার একটি ভিডিয়ো (video) ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি RCTV-সংবাদ)
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার, খড়্গপুর শহরের একটি বিজেপি কার্যালয়ে। অভিযোগ, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মমতা দাস, বিজেপি কর্মী অশোক সিং-কে প্রকাশ্যে জুতোপেটা করেন। অশোক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মমতা দাস পর পর দু’বার তাঁকে জুতো মারেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। ঘটনার পর অশোক নিজেই প্রতিবাদ জানিয়ে একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন।
অশোক সিংয়ের অভিযোগ,
“আমাদের ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা অনেকদিন ধরে রাস্তার ধারে চাউমিনের ঠেলা গাড়ি বসানোর অনুমতি চাইছিলেন কাউন্সিলারের কাছে। সেই ব্যক্তি থেকে শনিবার কাউন্সিলার ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি প্রতিবাদ করায়, উনি একজনকে সঙ্গে নিয়ে পার্টি অফিসে ঢুকে আমাকে জুতো মারেন।”
অন্যদিকে মমতা দাস পাল্টা দাবি করে বলেন,
“অশোক আমার গায়ে আগে হাত তুলেছে। আমাকে নিয়মিত গালিগালাজ করে, রাস্তায় বেরোলেই ছেলেদের দিয়ে উত্যক্ত করায়। তাই আমি মেরেছি। নিশ্চয়ই মারব!”
মমতা দাস অশোককে বিজেপি কর্মী (BJP worker) বলতেও নারাজ। তাঁর কথায়,
“অশোক একজন সমাজবিরোধী (anti-social)। ও বিজেপি করে না, তৃণমূলও করে না। কোনও দলই ওকে চায় না।”
এই ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দেন সেই বাম নেতা অনিল দাস ওরফে ভীম দা, যিনি তৃণমূল নেত্রী বেবির হাতে প্রকাশ্যে নিগৃহীত হয়েছিলেন। তাঁর মন্তব্য,
“তৃণমূল আর বিজেপি একই মুদ্রার এ পিঠ-ও পিঠ। প্রশাসনের মদতেই এইসব চলছে। প্রশাসন নীরব বলেই শহরে এমন ঘটনা ঘটছে।”
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন,
“অশোক সিং নিজেও একজন তোলাবাজ (extortionist)। ওদের মধ্যে তোলা নিয়ে গন্ডগোল হয়েছে কিনা বলতে পারব না। তবে বিজেপির এটাই সংস্কৃতি।”
বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে জেলা নেতা অরূপ দাস বলেন,
“ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে, আমরা দেখেছি। কী হয়েছে জানি না। খোঁজ নেওয়া হবে। এই ধরনের ঘটনা তৃণমূলের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত (corrupt), তোলাবাজ পার্টিতে (extortionist party) হয়। বিজেপির মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ দলে (disciplined party) এসব হওয়ার কথা নয়। দল নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে।”
এই ঘটনায় খড়্গপুর শহরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল—দুই প্রধান দলের নেতাদের প্রকাশ্য হিংসার এই ধারাবাহিকতা নতুন করে রাজনীতিতে শালীনতার প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।


