রাজনীতি
বাংলা থেকে ফিরেই বিবেকানন্দ ভবনের স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অমিত শাহ, জানালেন গভীর শ্রদ্ধা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ সফরের শেষে এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক স্থান পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। রবিবার, ১ জুন কলকাতায় স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda)-র উত্তর কলকাতার জন্মভিটে পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে গিয়ে স্বামীজির মূর্তি ও রামকৃষ্ণ-সারদা মায়ের প্রতিকৃতির সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সোমবার সকালে এই সফরের ভিডিও নিজের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন অমিত শাহ। ভিডিওতে দেখা যায়, স্বামীজির মূর্তির পায়ে মাল্যদান করছেন তিনি। এরপর রামকৃষ্ণ পরমহংস ও মা সারদার প্রতিকৃতির সামনে ফুল অর্পণ করে প্রণাম জানান তিনি।
Blessed to have visited the birthplace of Swami Vivekananda Ji and paid tribute to the legendary sage yesterday.
Also, had a great interaction with the revered saints. Here are the highlights. pic.twitter.com/OIwsYX00CA
— Amit Shah (@AmitShah) June 2, 2025
পরিদর্শনের সময় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীদের সঙ্গে কথাও বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন কার্তিক মহারাজ (Kartik Maharaj), যিনি অমিত শাহকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং আশীর্বাদ প্রদান করেন।
সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক আবেগঘন বক্তব্যে জানান, “আজ আমার জীবনের সৌভাগ্যের দিন। এমন একটি পবিত্র স্থানে এসেছি, যা শুধু ভারতের নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য এক চেতনার জাগরণের স্থান। এখানেই জন্ম নিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। যিনি আমাদের প্রাচীন জ্ঞান, দর্শন ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার ধর্ম সংসদে স্বামীজির সেই একটিমাত্র বাক্যেই সারা বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল সনাতন ধর্মকে। আধুনিকতা আর আধ্যাত্মিকতার মধ্যে ভারসাম্য গড়ে তুলে দেশকে জাগাতে চেয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, ৫০ বছর দেবদেবীকে ভুলে যদি কেবল ভারত মাতার সাধনা করা যায়, তবে ভারত জেগে উঠবে। আর ঠিক ৫০ বছর পরেই স্বাধীনতা আসে। তাঁর সেই আহ্বান আজও আমাদের কাছে পথপ্রদর্শক।”
শেষে ঈশ্বরের উদ্দেশে প্রার্থনা করে অমিত শাহ বলেন, “স্বামীজির দেখানো পথে যেন আমরা সকলেই চলতে পারি, সেই প্রেরণা তিনি আমাদের দিন।”
এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি এক গাঢ় সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক বার্তাও তুলে ধরলেন অমিত শাহ। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সামনে রেখে দেশজ সংস্কৃতির মর্যাদা পুনর্ব্যাখ্যার এক প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে এই পরিদর্শনকে।
