দেশের খবর
আমি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি’! মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েবড় ঘোষণা থালাপতি বিজয়ের
ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় আধিপত্যের (Dravidian dominance) অবসান ঘটিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করলেন থলপতি বিজয়। রবিবার, ১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই তাঁর প্রথম বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট— “আমি একজন সাধারণ মানুষ, আপনাদের ভাই।” তিনি ঘোষণা করেন যে, রাজ্যে এখন থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) ও সামাজিক ন্যায়ের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক ফাইলে স্বাক্ষর করেন। তাঁর প্রথম প্রশাসনিক নির্দেশের (Administrative order) মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ (Free electricity) প্রদান, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী (Special protection force) গঠন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলোই হবে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার (Priority)।
অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশে সেই চিরপরিচিত সম্বোধন ‘এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম’ (যারা আমার হৃদয়ে বাস করো) দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। রাজনৈতিক কোনো আভিজাত্য নয়, বরং দারিদ্র্য ও অপমানের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের সেবা করতে এসেছেন বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকার রাজ্যের ওপর ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে। তবে জোটসঙ্গীদের (Alliance partners) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও বিজয় সাফ জানিয়েছেন, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্ষমতার কেন্দ্রে (Center of power) একমাত্র তিনিই থাকবেন।
বিজয়ের প্রথম দফার মন্ত্রিসভায় (Cabinet) জায়গা পেয়েছেন ২৯ বছর বয়সী তরুণ বিধায়ক কীর্তনা থেকে শুরু করে চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক ও প্রাক্তন আইআরএস আধিকারিকরা। যদিও বিজয়ের দল ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, তবে কংগ্রেস, বাম ও অন্যান্য ছোট দলগুলির সমর্থনে জোটের শক্তি এখন ১২০। এবার লক্ষ্য আগামী ১৩ মে বিধানসভায় আস্থাভোট (Floor test) জয় করা।


