রাজনীতি
শুভেন্দুর শপথ মঞ্চে আবেগঘন মোদী! মাখনলাল সরকারের পা ছুঁয়ে নিলেন আশীর্বাদ
ডিজিটাল ডেস্কঃ ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে (Parade Ground) যখন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই মঞ্চে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব আবেগঘন মুহূর্ত। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) নরেন্দ্র মোদী হঠাৎ এগিয়ে গেলেন এক ৯৮ বছর বয়সী বৃদ্ধের দিকে। তিনি মাখনলাল সরকার— শিলিগুড়ির প্রবীণ বিজেপি নেতা এবং জনসংঘের সময়কাল থেকে দলের একনিষ্ঠ সৈনিক।
মাখনলাল সরকার কেবল একজন নেতাই নন, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত জীবন্ত ইতিহাস। ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদের ঐতিহাসিক কাশ্মীর যাত্রার (Kashmir journey) সফরসঙ্গী ছিলেন তিনি। প্রবীণ এই নেতাকে দেখে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং পা ছুঁয়ে প্রণাম (Prostrate) করেন। গায়ে জড়িয়ে দেন সম্মানসূচক শাল (Shawl)।
মাখনলাল সরকারের জীবন এক বীরত্বের কাহিনী। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর পর একটি গান গাওয়ার অপরাধে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার তাঁকে গ্রেফতার (Arrest) করেছিল। ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করায় তাঁকে আদালতে তোলা হয়। বিচারকের (Judge) অনুরোধে সেই গানটি তিনি এজলাসেই গেয়ে শোনান, যা শুনে মুগ্ধ বিচারক তাঁকে সসম্মানে মুক্তির নির্দেশ দেন।
আজকের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে (Auspicious moment) নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মাখনলাল সরকারের আশীর্বাদ নেন। বাংলার জয়কে বিজেপি বরাবরই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চরণে উৎসর্গ করেছে। সেই আদর্শের পথ প্রদর্শককে ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা প্রদর্শন রাজনৈতিক মহলে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা (Significant message) পৌঁছে দিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার সূচনায় আদি গেরুয়া নেতৃত্বের এই সম্মান প্রাপ্তি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা (Enthusiasm) তৈরি করেছে।


