দেশের খবর
‘ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেলের ভাণ্ডার মজুত’, রাজ্যসভার ভাষণে সংকটের মাঝেও ভরসা প্রধানমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ভারতের ওপর। মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই যুদ্ধের কারণে ভারতের জ্বালানি আমদানির (Energy Import) ওপর বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস এবং সারের জোগানে (Supply) সমস্যা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত আগে মাত্র ২৭টি দেশ থেকে অশোধিত তেল (Crude Oil) ও গ্যাস আমদানি করত। বর্তমানে সেই নির্ভরতা কমিয়ে আমদানিকারী দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ করা হয়েছে। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেলের ভাণ্ডার (Oil Reserves) রয়েছে। আমরা কোনো একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে চাই না।” এছাড়াও এলপিজি-র (LPG) বদলে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG) ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
যুদ্ধের আবহে দেশে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি না হয়, সেদিকে নজর দিতে রাজ্য সরকারগুলিকে আবেদন জানিয়েছেন মোদি। বেআইনিভাবে পণ্য মজুত বা কালোবাজারি (Black Marketing) রুখতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সারের জোগান স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার (Priority) বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোতে বহু ভারতীয় কর্মী ও নাবিক (Sailors) রয়েছেন, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রায় ১ কোটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। যুদ্ধের এই আবহে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বিভেদ ভুলে শান্তির (Peace) বার্তা পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি। মোদির মতে, এই কঠিন পরিস্থিতি ভারতকে আরও বেশি ‘আত্মনির্ভর’ (Self-reliant) হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
