ভাইরাল খবর
লোকো পাইলট স্বল্পতা চরমে, কাজ দ্বিগুণ—বাতিল ট্রেন বাড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলে
ডিজিটাল ডেস্কঃ লোকো পাইলটদের (Loco Pilot) ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়তে বাড়তে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন খড়্গপুর ডিভিশনের ট্রেনচালকেরা। নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক বিশ্রাম (Weekly Rest) পাওয়া দূর, তাঁদের কাজের সময় ৮ ঘণ্টা থেকে বেড়ে ১২–১৮ ঘণ্টা (Working Hours) হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ, কখনও কখনও টানা চার রাত নাইট ডিউটি (Night Duty) করতে হচ্ছে। অসুস্থ হলেও মিলছে না সিক লিভ (Sick Leave), কারণ রেল হাসপাতালকে নাকি ‘রেস্ট না লিখতে’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খড়্গপুর ডিভিশনে লোকো পাইলটের sanctioned পদ ৩৬৯১, কিন্তু কর্মরত মাত্র ২৩৭৬—অর্থাৎ ৩৫.৬% পদ শূন্য (Vacancy)। ফলে এক জনকেই দ্বিগুণ কাজ করতে হচ্ছে। দেরিতে চলছে অধিকাংশ প্যাসেঞ্জার ট্রেন, বিশ্রাম ছাড়াই নতুন কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন চালকেরা।
ডিভিশনাল সেক্রেটারির অভিযোগ, রেলের নিয়ম অনুযায়ী ৩০ ঘণ্টার রেস্ট (Rest Hours) পাওয়ার কথা থাকলেও তা মিলছে না। বরং দাবি করা ৪৬ ঘণ্টা বিশ্রামও কার্যকর হয়নি। মাইলেজের ওপর বাড়তি TA (Travel Allowance)-ও দেওয়া হয়নি।
সংগঠনের দাবি, লোকো পাইলট সংকট মেটাতে ১৮ হাজার নিয়োগ (Recruitment) জরুরি। যদিও রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড বছরখানেক আগে ৬ হাজার পদে পরীক্ষা নিলেও নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।
কারণ, একজন দক্ষ লোকো পাইলট তৈরি হতে কমপক্ষে দুই বছর (Two-Year Training Cycle) সময় লাগে—ALP থেকে মালগাড়ি, সেখান থেকে প্যাসেঞ্জার ও মেল ট্রেন চালানোর ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
সূত্রের দাবি, লোকো পাইলটের অভাবেই করোনার পর ২২টি EMU ও ৬টি MEMU (Local Trains) আর চালু হয়নি। প্রশ্ন উঠছে—“চালক না থাকলে ট্রেন চালাবে কে?” ভবিষ্যতে আরও ট্রেন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


