কসবা গণধর্ষণ: নির্যাতিতার চিৎকারে রক্ষীকে গুলির হুমকি, তদন্তে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ
Connect with us

রাজ্যের খবর

কসবা গণধর্ষণ: নির্যাতিতার চিৎকারে রক্ষীকে গুলির হুমকি, তদন্তে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ

Dipa Chakraborty

Published

on

কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়: কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গেছে, নির্যাতিতাকে গার্ড রুমে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর চিৎকারে ছুটে এসেছিলেন এক নিরাপত্তারক্ষী। আর তখনই অভিযুক্ত মনোজিতরা তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ধৃত রক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেরায় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ধৃত চার অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়। তাঁদের বয়ানে একাধিক অসংগতি লক্ষ্য করেছেন তদন্তকারীরা। সূত্র বলছে, নির্যাতিতাকে গার্ডরুমে জোর করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি চিৎকার করতে থাকেন। সেই চিৎকার শুনেই কর্তব্যরত রক্ষী ছুটে আসেন। তিনি জানতে চাইলে অভিযুক্ত মনোজিৎ, জায়েব ও প্রমিত তাঁকে চলে যেতে বলেন এবং হুমকি দেন — বেশি কিছু বললে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।

এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে — তাহলে কি অভিযুক্তদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল? পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এছাড়া, আরও এক নিরাপত্তারক্ষীর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ, যিনি ২৫ জুন সকালের শিফটে দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু বিকেল ৪টার পরে রাত ৮টা ২৫ পর্যন্ত কেন কলেজে ছিলেন — তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর সঙ্গে কার কার যোগাযোগ হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
ads

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বারবার বয়ান বদল করে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এমনকি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়েও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েছে তারা।

গোয়েন্দাদের অনুমান, গার্ড রুমে নির্যাতিতাকে ভয় দেখানো হয়েছিল বেশ কিছু প্রভাবশালীর নাম করে। বলা হয়েছিল, কথা না শুনলে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে, গার্ড রুমে জায়েব ও প্রমিত প্রবেশ করে এবং নির্যাতিতাকে বিবস্ত্র করতে চায়। তরুণী বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় — ‘দাদা যা বলছে, চুপচাপ শুনো, না হলে অবস্থা আরও খারাপ হবে।’

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে এবং তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শেষ পর্যন্ত গেট খুলে দিয়ে তাকে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, যদি সে সময় তরুণী অচেতন না হয়ে যেতেন, তবে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারত।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত জোরকদমে চলছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement