দেশের খবর
“বাংলায় বলাই কাল!” দিল্লিতে বাংলাদেশি সন্দেহে আটকে দিনহাটার ৭ বাসিন্দা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হতে হল কোচবিহারের দিনহাটার (Dinhata) প্রাক্তন ছিট মহলের আট বাসিন্দাকে। তাঁদের মধ্যে তিনটি শিশু ও এক মহিলা রয়েছেন। যদিও পরে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, এখনও পর্যন্ত সাতজন দিল্লির (Delhi) হেফাজতে রয়েছেন বলে অভিযোগ। আটকদের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বাংলা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি (Bangladeshi) সন্দেহে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তির (Land Boundary Agreement) মাধ্যমে তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পান। কেন্দ্র সরকারের তরফে দেওয়া পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও ট্রাভেল ডকুমেন্টস তাঁদের রয়েছে। সেসব দিল্লি পুলিশকে দেখানো হলেও, পুলিশ জানিয়েছে— যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ছাড়া হবে না।
আটকদের পরিবার থেকে আজিমা বিবি (Azima Bibi) বলেন, “আমার স্বামী এবং আত্মীয়রা জীবিকার জন্য বাইরে গিয়েছিল। ওরা সবাই ভারতীয় নাগরিক। বৈধ নথিপত্র রয়েছে। কিন্তু এখন শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ওদের বাংলাদেশি বানিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”
আরও পড়ুনঃ ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’-এ ছক এনআরসির! কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূল
এদিকে ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha) সাফ অভিযোগ করেছেন, “এটা বিজেপির (BJP) পরিকল্পিত চক্রান্ত। উদ্দেশ্য— মুসলিম সম্প্রদায় এবং ছিটমহলের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা। এইভাবে বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ করছি, এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”
বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা সুরে উত্তরবঙ্গ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিরাজ বোস (Biraj Bose) বলেন, “বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের মাত্রা পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি। বিস্তীর্ণ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। শাসকদলের মদতে বহু বাংলাদেশি সহজেই বৈধ কাগজপত্র জোগাড় করে ফেলে। এঁরাই পরে তৃণমূলের ভোটব্যাংক হয়ে ওঠেন।”
ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠছে— বাংলা ভাষায় কথা বললেই কি কেউ বাংলাদেশি হয়ে যায়? উত্তর চায় দিনহাটার মানুষ।
