খুন
ত্রিকোণ প্রেম নাকি ধর্মীয় বিদ্বেষ? মুসলিম যুবককে খুন করে দেহ রেখে দিল ডিপ ফ্রিজে!
ডিজিটাল ডেস্কঃ ত্রিপুরার আগরতলায় এক সংখ্যালঘু যুবকের নির্মম খুন। লাভ জেহাদ (Love Jihad) না ত্রিকোণ প্রেম—এই প্রশ্নে দ্বিধায় পুলিশ। গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা, তারপর মৃতদেহ রেখে দেওয়া হল ডিপ ফ্রিজে (Deep Freeze) টানা তিন দিন! চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত, পেশায় চিকিৎসক (Doctor) দিবাকর সাহা (Dibakar Saha)।
ঘটনা ইন্দ্রনগরের। রবিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন ২৫ বছরের শরিফুল ইসলাম (Shariful Islam)। অভিযোগ, পরিচিত দিবাকর সাহা তাঁকে ‘গিফট’ (Gift) দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই শরিফুলের আর খোঁজ ছিল না। পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হলে তদন্তে নেমে সোমবার দিবাকরকে আটক করে পুলিশ।
দিবাকরকে টানা জিজ্ঞাসাবাদে বুধবার বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক সত্য। পুলিশ সুপার কে কিরণ কুমার (K Kiran Kumar) জানিয়েছেন, দিবাকরের কাকার মেয়ের সঙ্গে শরিফুলের গত আট মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, শরিফুল ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় মেয়েটির পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। প্রথমে পুলিশের সন্দেহ ছিল এটি ‘অনার কিলিং’ (Honor Killing)।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে হামলা, ইউনুস সরকারের শাসনে ঐতিহ্য কি আজ নিরাপদ?
কিন্তু তদন্তে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসে। পুলিশ সূত্রে খবর, দিবাকর নিজেও তার তুতো বোনের প্রতি আকৃষ্ট ছিল। প্রেমিক শরিফুল ছিল তার চোখে প্রধান বাধা। সেই কারণেই নাকি দিবাকর পরিকল্পিতভাবে শরিফুলকে খুন করার ফাঁদ পাতে।
দিবাকরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সে শরিফুলকে হত্যা করে পলিথিনে মুড়িয়ে সুটকেসে ভরে দেয়। পরে দেহটি নারায়ণপুরের তাঁদের দোকানের ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখে। বুধবার পুলিশ ও ফরেনসিক টিম সেই ডিপ ফ্রিজ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় দিবাকরের বাবা-মাকেও (Parents) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সন্দেহ, হত্যাকাণ্ডের পরে মৃতদেহ লুকোতে দিবাকরের পরিবার সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছে। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ত্রিপুরা জুড়ে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দোষীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ত্রিকোণ প্রেম, পারিবারিক রক্ষণশীলতা, নাকি লাভ জেহাদের (Love Jihad) মতো গভীর ধর্মীয় বিদ্বেষ রয়েছে?
