ডিজিটাল ডেস্কঃ বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক আইএএস (IAS) অফিসার। ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার ধর্মগড়ের সাব-কালেক্টর ধীমান চাকমা (Dheeman Chakma) রবিবার ফাঁদে পড়লেন ভিজিল্যান্স বিভাগের। অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন তিনি। প্রথম দফায় ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার সময়ই ধরা পড়েন ওই আমলা।
ভিজিল্যান্স সূত্রে খবর, ব্যবসায়ীর অভিযোগ পেয়ে রবিবার তড়িঘড়ি ধীমানের সরকারি বাসভবনে ফাঁদ পাতেন তদন্তকারীরা। সেখানে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার মুহূর্তে ধীমানকে পাকড়াও করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধীমানের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা। তাঁর টেবিলের ড্রয়ার থেকে টাকা বাঁধাই বান্ডিলের আকারে উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বকরি ঈদে পশুর রক্তে লাল রাস্তা, মুসলিম তোষণের অভিযোগে বিধানসভায় বিক্ষোভ বিজেপির
ধীমান চাকমা (Dheeman Chakma) ত্রিপুরার কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা। আগরতলার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (NIT) থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করেন তিনি। এরপর প্রথমে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জে ভারতীয় বন পরিষেবা (IFS) অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে আইএএস ক্যাডার পান।
সম্প্রতি ওড়িশায় ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়ালেন আরও এক আধিকারিক। দিন কয়েক আগে সিবিআই (CBI)-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ওড়িশা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) ডেপুটি ডিরেক্টর চিন্তন রঘুবংশী (Chintan Raghuvanshi)। অভিযোগ, এক খনিজ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। জানা গিয়েছে, রঘুবংশী ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চলা ইডি-র মামলা থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে মোট ৫ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। শুক্রবার তাঁর কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা নেওয়ার সময় সিবিআই আধিকারিকদের হাতে ধরা পড়েন রঘুবংশী। রতিকান্ত রাউত (Ratikanta Raut) নামে ওই ব্যবসায়ীর একটি পাথর খনির ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরপর দু’জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
প্রসঙ্গত, ধৃত ধীমান চাকমাকে জেরা করে আরও বড় কোনও দুর্নীতির চক্রের সন্ধান মেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।