ডিজিটাল ডেস্কঃ বোলপুর থানার আইসির সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় শনিবার (Saturday) নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাজিরা দেননি তৃণমূলের (TMC) বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সকালে বোলপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের (SDPO) দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও দেখা মেলেনি কেষ্ট মণ্ডলের। যার ফলে পরিস্থিতিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা দানা বাঁধে।
অনুব্রতর হয়ে হাজির হন পাঁচজন আইনজীবীর একটি প্রতিনিধি দল। তাঁরা এসডিপিও অফিসে উপস্থিত হয়ে জানান, এটি শুধুই একটি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ (courtesy visit)। অনুব্রতের অনুপস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, আইনজীবীরা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন— শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুব্রত মণ্ডল এদিন উপস্থিত হতে পারেননি। তাই তাঁকে নতুন করে ফের নোটিস ধরানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি তো মরিনি!’—খুন হওয়া ব্যাক্তি হঠাৎ জীবিত! হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের মামলায় চাঞ্চল্য
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (Thursday) সন্ধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি অডিও ক্লিপ, যেখানে বোলপুর থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (IC) লিটন হালদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায় অনুব্রত মণ্ডলকে। অডিওর ভাষা এতটাই কুরুচিকর যে, তা নিয়ে শোরগোল পড়ে রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনিক মহলে। এর জেরেই নবান্নর নির্দেশে পুলিশ দ্রুত অনুব্রতের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ধারাগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ২২৪, ৩৫১, ৭৫ এবং ১৩২ ধারা। এর মধ্যে ৭৫ ও ১৩২ দুটি জামিন অযোগ্য বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবারই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে পুলিশের তরফে নোটিস টাঙানো হয় এবং তাঁকে শনিবার হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অডিও কাণ্ড ঘিরে বিরোধীরা আগেই সরব হয়েছিল। তাঁদের দাবি, অনুব্রত মণ্ডলকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। এমনকী, এই ঘটনায় দলীয়ভাবে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তৃণমূলের (Trinamool Congress) ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি এবং বাম নেতৃত্ব।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অনুব্রতর আইনজীবীদের উপস্থিতি এবং তাঁর নিজে না আসা— তা ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি হয়তো আগে থেকেই জামিনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে, সোমবার (Monday) তিনি আগাম জামিনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
ঘটনার বর্তমান মোড় দেখে প্রশ্ন উঠছে— আদৌ কি আইনের মুখোমুখি হবেন অনুব্রত মণ্ডল? নাকি আইনজীবীদের কৌশলের মাধ্যমে পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি? প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
[shortened_url]