উত্তর দিনাজপুর
টোলের সিস্টেমে বড়সড় পরিবর্তন! আর ফার্স্ট ট্যাগ এর মাধ্যমে গুনতে হবে না কর
ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশের সড়ক পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। আর ফাস্ট ট্যাগ নয়—এবার টোল আদায়ের ক্ষেত্রে আসছে জিপিএস-ভিত্তিক প্রযুক্তি। আগামী ১ মে থেকে দেশের নির্দিষ্ট কিছু রুটে চালু হতে চলেছে ‘গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (GNSS) ভিত্তিক কর আদায় ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে গাড়ির যাত্রাপথ অনুসারে কিলোমিটার অনুযায়ী টোল কেটে নেওয়া হবে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে।
কিভাবে কাজ করবে নতুন প্রযুক্তি?
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি গাড়িতে থাকবে একটি বিশেষ ‘অন-বোর্ড ইউনিট’ (OBU)। এটি চালকের গাড়ির অবস্থান ও গতিপথ নিরবিচারে ট্র্যাক করবে। জাতীয় সড়কে গাড়ি যতদূর চলবে, সেই অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত টোল ধার্য হয়ে অর্থ কেটে নেওয়া হবে। কোনও টোল প্লাজায় দাঁড়াতে হবে না, ফলে সময় বাঁচবে এবং যানজট কমবে।
আরও পড়ুনঃ ভুয়ো লোনের প্রলোভনে কোটি টাকা হাতানো! সাইবার প্রতারণার জাল ভাঙল দিনাজপুর পুলিশ
প্রযুক্তির সুবিধা:
-
সময় ও জ্বালানির সাশ্রয়: গাড়িকে টোল প্লাজায় থামতে হবে না, ফলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা নয়।
-
নির্ভুল অর্থ কাটা: সফ্টওয়্যার নির্ভর প্রক্রিয়ায় ভুলবশত অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
-
দূরত্ব অনুযায়ী টোল: একাধিক টোল পার করার বদলে শুধু পাড়ি দেওয়া দূরত্ব অনুযায়ী অর্থ দিতে হবে।
বিপাকে পড়তে পারেন টোল প্লাজার কর্মীরা:
যেখানে প্রযুক্তি নতুন পথ খুলছে, সেখানে তৈরি হচ্ছে একাংশের জন্য অনিশ্চয়তার মেঘ। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের পানিশালার বরই টোলপ্লাজার অস্থায়ী কর্মীরা উদ্বেগে। তাঁরা বলছেন, বর্তমানে একটি টোল প্লাজায় গড়ে ১৫০-২০০ কর্মী কাজ করেন। প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেটিক সিস্টেম চালু হলে এই বিশাল কর্মীবাহিনী কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
টোল শিফট ইনচার্জ ইখতিকার আলী বলেন, “আমরা জানি আধুনিক প্রযুক্তি দরকার, কিন্তু সরকার যদি বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা না করে, তাহলে আমরা রাস্তায় বসব।” অপর কর্মী কবীর আলী বলেন, “এই সিস্টেম একদিকে সুবিধা আনবে ঠিকই, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।” টোল সহকারী রেজা মুজাফফর হোসেনের কথায়, “এক রাতেই যদি চাকরি চলে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে বাঁচব কী করে?”
আপাতত পরীক্ষামূলক প্রয়োগ
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম দফায় এই সিস্টেম শুধুমাত্র যাত্রীবাহী বাস ও লরির জন্য চালু করা হবে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নির্দিষ্ট হাইওয়েতে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে ১ মে থেকে। ফলাফল খতিয়ে দেখে পরে তা অন্যান্য যানবাহনের জন্য ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
সরকারি স্তরে এই পরিবর্তন ‘ডিজিটাল ভারত’ প্রকল্পের অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থাকছেই।
