রাজনীতি
তামিলনাড়ুতে পদপিষ্টে ৪১ জনের মৃত্যু, সিবিআই তদন্তের দাবি! বিজয়কে গ্রেফতার করা হবে কি? শুরু তীব্র রাজনৈতিক লড়াই
তামিলনাড়ুর করুর জেলায় মর্মান্তিক পদপিষ্টে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জন মানুষের। এই ঘটনার জেরে এক দিকে জনমনে ক্ষোভ, অন্য দিকে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চাপানউতর।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেতা থলপতি বিজয় (Thalapathy Vijay), যিনি তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্রি কাজ়গম (TVK)-এর হয়ে সেখানে ইভেন্ট (event) করেছিলেন। রাজ্যের শাসক দল ডিএমকে (DMK) এই ঘটনায় সরাসরি বিজয় ও তাঁর দলের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই টিভিকে-র তিন শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। যদিও বিজয় নিজে এখনো অভিযুক্ত নন, তবে প্রশ্ন উঠছে—তাঁকেও কি গ্রেফতার করা হতে পারে?
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন (MK Stalin) বলেছেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী। অর্থাৎ, আপাতত অপেক্ষা আদালতের সিদ্ধান্তের।
সিবিআই তদন্তের দাবি
ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে টিভিকে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি তুলেছে। একই দাবি জানাচ্ছেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি (BJP) সভাপতি কে. আন্নামালাইও (K Annamalai)। বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব এই ঘটনার জন্য ডিএমকে সরকারের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ফেইলিওর (administrative failure)-কেই দায়ী করেছে।
টিভিকে ইতিমধ্যেই মাদ্রাজ হাইকোর্টে (Madras High Court) সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা করেছে। আদালত সোমবার দুপুরে এই আবেদনের শুনানি করতে পারে।
কী বলছে টিভিকে, কী বলছে পুলিশ?
টিভিকে-র দাবি, হঠাৎ পাওয়ার কাট (power cut), পুলিশের লাঠিচার্জ (lathicharge), এবং পাথর ছোড়াছুড়ির কারণেই ভিড় উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ অবশ্য এই দাবি মানেনি। পুলিশের বক্তব্য, বিজয়ের দেরিতে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছনো এবং এক্সেস ভিড় (excess crowd)-এর জন্য এই ঘটনা ঘটে।
বিজয়ের ভূমিকা ও বিতর্ক
ঘটনার পরে বিজয় চেন্নাই ফিরে যান, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকেই বলেন, তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন। যদিও তিনি পরে ২০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মৃতদের পরিবারকে।
রবিবার সন্ধ্যায় করুর যাওয়ার কথা ছিল তাঁর, কিন্তু ল অ্যান্ড অর্ডার (law and order) পরিস্থিতির কথা বলে তাঁকে না যাওয়ার অনুরোধ করে সরকার।
রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ
বিজয় নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করে সরাসরি ডিএমকে এবং বিজেপিকে আক্রমণ করে চলেছেন। তাঁর উত্থান রাজ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখনই বিজয়কে গ্রেফতার করলে জনগণের সহানুভূতি তাঁর দিকে চলে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিতে চাইছে না সরকার। আপাতত অপেক্ষা করা হচ্ছে আদালতের নির্দেশের।
