ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের কর কাঠামোকে সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আয়কর আইন, ২০২৫ কার্যকর করল। সংসদের উভয় কক্ষে পাশ হওয়ার পর এই আইন ভারতের প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর মাধ্যমে করদাতাদের জন্য কর দাখিলের প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ, ডিজিটাল এবং স্বচ্ছ।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আইন পুরনো আয়কর আইন, ১৯৬১-কে প্রতিস্থাপন করবে। ছয় দশক ধরে প্রায় ৪,০০০ সংশোধনী যুক্ত হওয়ায় পুরনো আইন অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছিল। অসংখ্য ধারা, প্রভিসো এবং অপ্রচলিত বিধান করদাতাদের জন্য বিভ্রান্তির সৃষ্টি করত এবং মামলার সংখ্যা বাড়াত।
অর্থমন্ত্রী ২০২৪ সালের বাজেট ভাষণে পুরনো আইনকে সম্পূর্ণ সংস্কারের ঘোষণা দেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড (CBDT) একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠন এবং কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়।
নতুন আয়কর আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
•ট্যাক্স ইয়ার (Tax Year) নামে নতুন ধারণা চালু হয়েছে। এটি আগের অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার এবং প্রিভিয়াস ইয়ার শব্দগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে।
•কর ছাড় (Exemptions) এবং TDS সম্পর্কিত ধারাগুলো একত্রিত করে সরলীকরণ করা হয়েছে।
•ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স এবং ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে মানব হস্তক্ষেপ কমানো হবে।
•ভার্চুয়াল ডিজিটাল অ্যাসেটস, যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন সম্পদের কর নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে।
•কর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত ও করদাতা-বান্ধব ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই আইন করের হার পরিবর্তন না করে কেবল করদাতাদের জন্য সহজবোধ্য এবং আধুনিক কাঠামো তৈরি করবে। এর ফলে মামলা কমবে, করদাতার আস্থা বাড়বে এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটি ভারতের কর ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। নতুন আইন করদাতাদের জন্য কর দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং অর্থনীতির গতি বাড়াবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আয়কর আইন ভারতের Ease of Doing Business সূচকে উন্নতি ঘটাবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে