দেশের খবর
শিকড়ের টানে ইজরায়েলে ২৫০ ভারতীয় ইহুদি! মণিপুর-মিজোরাম থেকে শুরু হলো ‘উইংস অফ ডন’
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর ও মিজোরাম থেকে প্রায় ২৫০ জন ইহুদি তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গন্তব্য ইজরায়েলে পৌঁছেছেন। ইজরায়েল সরকারের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন উইংস অফ ডন’ (Operation Wings of Dawn) বা ‘ভোরের ডানা’র অধীনে এই প্রত্যাবাসন শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ২৫০ জনের প্রথম দলটি বিন-ই-মানেশে গিয়ে পৌঁছান। তাঁরা নিজেদের বাইবেলে উল্লিখিত জোসেফের পুত্র মেনাশের বংশধর (Descendants of Menashe) বলে দাবি করেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ সালে আসিরীয়দের আক্রমণের পর তাঁরা নির্বাসিত (Exiled) হয়েছিলেন। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে পারস্য, তিব্বত ও চীন হয়ে তাঁরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। বর্তমানে মণিপুরে জাতিগত দাঙ্গার ভয়াবহতা এবং নিজেদের ধর্মীয় শিকড়ের টানে তাঁরা দেশান্তরী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতানিয়াহু সরকার এই পুরো পুনর্বাসন পরিকল্পনার জন্য প্রায় ৯ কোটি শেকেল বা তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট (Budget) নির্ধারণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিবাসনের (Migration) পেছনে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি ইজরায়েলের কৌশলগত (Strategic) ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে। হামাস ও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বর্তমানে শ্রমিকের চরম সংকট চলছে। বনি মেনাশে সম্প্রদায়ের এই সদস্যরা ইজরায়েলে গিয়ে সেই শ্রম ঘাটতি পূরণ করবেন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই এই সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০ জন সদস্য ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করছেন। যদিও নতুন দেশে বর্ণবাদ (Racism) বা স্বতন্ত্র চেহারার কারণে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তবুও ড্যানিয়েল হাংশিংয়ের মতো এই সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশ্বাস— ইজরায়েলই তাঁদের শেষ গন্তব্য এবং প্রতিশ্রুত ভূমি (Promised Land)। ২০২৬ সালের মধ্যে আরও ১,২০০ জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ইজরায়েলি প্রশাসন।

