ভাইরাল খবর
তৃণমূলের অভিযোগে মালদহে পর্যবেক্ষক বদল! ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদলে নতুন বিতর্ক
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) প্রাক্কালে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ধারাবাহিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে মালদহের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষককে (Police Observer) সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালদহের মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আইপিএস জয়ন্ত কান্তের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। তাঁদের দাবি ছিল, জয়ন্ত কান্তের স্ত্রী বিহারের একজন সক্রিয় বিজেপি নেত্রী, ফলে তাঁর স্বামী হিসেবে জয়ন্ত কান্তের পক্ষে নিরপেক্ষ (Neutral) কাজ করা সম্ভব নয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর জায়গায় বিহার ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হৃদয় কান্তকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুধু মালদহ নয়, নির্বাচন কমিশন জঙ্গিপুর, আসানসোল শিল্পাঞ্চল, খড়্গপুর এবং বনগাঁ সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রেও নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। তবে তৃণমূলের নিশানায় রয়েছেন আরও চারজন বিতর্কিত পর্যবেক্ষক। গাজোলের পর্যবেক্ষক ধীরজ কুমারের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে থাকাকালীন টেন্ডার কেলেঙ্কারির (Scam) অভিযোগ এবং বনগাঁ দক্ষিণের অজয় কাটেসারিয়ার বিরুদ্ধে জমি হস্তান্তরের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। এছাড়াও বালিগঞ্জের পর্যবেক্ষক গন্দম চন্দ্রুডুর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা এবং মধ্যমগ্রামের অরিন্দম ডাকুয়া ওড়িশার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কমিশন পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত অতীত সম্পন্ন বা বিজেপি-ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের (Officials) বাংলায় পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠাচ্ছে। যদিও সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন (Free and Fair Election) নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই বদলি বলে দাবি কমিশনের। নির্বাচনের মুখে এই নজিরবিহীন রদবদল এবং আধিকারিকদের অতীত নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে।


