বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন! ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে জেলে পাঠাল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal) বুধবার অভূতপূর্ব এক রায় দিয়েছে। মোট ১৫ জন কর্মরত সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে (Prison) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের আগে থেকেই হেফাজতে (Custody) রাখা হয়েছিল ঢাকার সেনা সদর দফতরের একটি ভবনে, যা অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ। আগে কখনও এত বড় সংখ্যক সেনা অফিসারকে সাধারণ ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) তোলা হয়নি। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এতদিন পর্যন্ত বিচার হত শুধুই সেনা আদালতে (Military Court)। কিন্তু এবার মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিচার করার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই তোলা হল সেনা সদস্যদের — যা ঘিরে দেশজুড়ে, বিশেষত সেনা মহলে, চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
এই মামলার চার্জশিটে (Charge Sheet) অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। বর্তমানে হেফাজতে থাকা ১৫ অফিসারের পাশাপাশি ১২ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার নামও রয়েছে এই মামলায়। তাঁদের বিরুদ্ধে গুম (Enforced Disappearance), খুন (Murder) সহ একাধিক গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের (Crimes Against Humanity) অভিযোগ রয়েছে।
এই ট্রাইব্যুনালে সেনা অফিসারদের বিচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এক সামাজিক মাধ্যম (Social Media) পোস্টে অভিযোগ করেন, “দেশপ্রেমিক সেনাদের হয়রানি হচ্ছে, অথচ সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান চুপ করে আছেন। এভাবে চলতে থাকলে একদিন তাকেও নিশানা করা হবে।”
হাসিনার মতে, সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় বর্তমান সেনাপ্রধান চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। এই মন্তব্য সেনা-রাজনীতির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে আরও উন্মোচন করেছে।
প্রশ্ন উঠছে— এই ২৫ জন সেনা অফিসার (চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত), যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁরা সকলেই শেখ হাসিনার শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। কেউ ছিলেন ডিজিএফআই (DGFI)–এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কেউ বা র্যাব (RAB)-এর দায়িত্বে।
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, “অতীতে খালেদা জিয়া, এরশাদ কিংবা জিয়াউর রহমানের শাসনকালেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের (Human Rights Violation) অভিযোগ ছিল। তাহলে শুধু শেখ হাসিনার আমলের অফিসারদের কেন বেছে নেওয়া হল?”
ঘটনার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। এই নজিরবিহীন বিচার কি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কোনও বড়সড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে?


