রাজনীতি
দুর্গাপুরে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা রাজ্যপালের
ডিজিটাল ডেস্কঃ দুর্গাপুরে (Durgapur) গণধর্ষণ (Gang-rape) কাণ্ডে নির্যাতিতার (Victim) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ্যপাল (Governor) সিভি আনন্দ বোস (C.V. Ananda Bose)। ওই সাক্ষাতের পর তিনি এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যপালের বক্তব্য, “বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন (President’s Rule) চাইছে।”
তবে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক ক্ষমতা (Constitutional Power) রয়েছে। তিনি সর্বসমক্ষে এ নিয়ে কিছু বলবেন না বলে জানালেও, আশ্বাস দিয়েছেন “যথাযথ পদক্ষেপ (Appropriate Action) করা হবে।”
রাজ্যপালের এই মন্তব্য রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা (Law and Order) পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। কারণ, সম্প্রতি বাংলায় একাধিক ধর্ষণ, দুষ্কর্ম ও অসামাজিক কার্যকলাপের (Anti-social Activities) অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন জেলায়।
তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যপাল একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। কিন্তু বাংলার মানুষ রাষ্ট্রপতি শাসন মেনে নেবে না। আর পার্লামেন্টে তো বিজেপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Two-thirds Majority) নেই।”
অন্যদিকে, বিজেপি (BJP) বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “সাংবিধানিক প্রধান (Constitutional Head) হিসেবে তিনি তাঁর মন্তব্য করেছেন। বাংলায় ভেঙে পড়া প্রশাসনিক অবস্থা (Administrative Failure) ও আইনশৃঙ্খলার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর বক্তব্যে।”
সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ হাওড়া (Howrah) স্টেশন থেকে গাড়িতে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রাজ্যপাল। সেখানে নির্যাতিতা চিকিত্সাধীন একটি বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital) গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেন।
হাওড়া থেকে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানিয়েছিলেন, “ঘটনার বিস্তারিত জানার পরই মন্তব্য করব।” আর নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলার পরই রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে তাঁর এই তাৎপর্যপূর্ণ (Significant) ইঙ্গিত রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।


