দেশের খবর
মার্কিন শুল্কবৃদ্ধির জেরে বিপর্যস্ত ভারতীয় রপ্তানি বাজার, পোশাক শিল্পে অচলাবস্থা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে এক বড়সড় ধাক্কা। মার্কিন প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় মোট শুল্কহার পৌঁছে গিয়েছে ৫০ শতাংশে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে, বিশেষ করে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে। ইতিমধ্যেই তিরুপুর, নয়ডা ও সুরাটের মতো কেন্দ্রগুলিতে উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি এসসি রালহান (S.C. Ralhan)। তাঁর কথায়, “অতিরিক্ত শুল্কের ফলে ভারতীয় প্রস্তুতকারকরা ভিয়েতনাম, বাংলাদেশসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।”
শুধু বস্ত্র নয়, একাধিক রপ্তানি খাত বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। মূল্যবান পাথর, সোনার গয়না, চিংড়ি, কার্পেট, আসবাবপত্র—সব ক্ষেত্রেই শুল্কের বোঝা চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (Global Trade Research Initiative)-এর হিসাব বলছে, ২০২৫-২৬ সালে আমেরিকায় ভারতের রফতানি প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে যেতে পারে। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তা নেমে আসতে পারে মাত্র ৪৯.৬ বিলিয়ন ডলারে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা চিংড়ি রপ্তানিতে। ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে ২০২৪-২৫ সালে যেখানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল, এবার সেই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা। টেক্সটাইল খাতে চাপানো হয়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ শুল্ক। পোশাক রপ্তানিতে শুল্কহার পৌঁছেছে ৬০ থেকে ৬৪ শতাংশের মধ্যে। হীরে, সোনার গয়না ও মূল্যবান পাথরের ক্ষেত্রে শুল্কহার ৫২ শতাংশেরও বেশি।
যদিও সবক্ষেত্রে শুল্ক ধার্য হয়নি। ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া ওষুধ (Pharmaceuticals) এবং স্মার্টফোন (Smartphones)-এর ওপর কোনও শুল্ক চাপানো হয়নি। বরং গত অর্থবর্ষে আমেরিকায় ভারতীয় ওষুধ বিক্রি হয়েছিল ৯.৮ বিলিয়ন ডলার, আর আইফোন রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১০.৬ বিলিয়ন ডলারে।


