বাংলাদেশ
গোপালগঞ্জে সেনার গুলিতে মৃত্যু ৪ জনের, ‘গণহত্যা’র অভিযোগ আওয়ামি লিগের, ইউনুসের বাড়ি ঘিরে লং মার্চের ডাক হাসিনার
ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের রক্তাক্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষ। আওয়ামি লিগের শক্ত ঘাঁটি গোপালগঞ্জ এবার পরিণত হয়েছে উত্তপ্ত সংঘাতক্ষেত্রে। বুধবার নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং আওয়ামি লিগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সেনার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। ঘটনায় আহত বহু। সেনা হস্তক্ষেপে মৃতদের বিষয়ে আওয়ামি লিগ অভিযোগ তুলেছে, এটি ছিল ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ (Planned Massacre)। একইসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এই ঘটনার জবাব দিতে আহ্বান জানিয়েছেন দলের কর্মীদের।
ঘটনার পর থেকেই থমথমে গোপালগঞ্জ। জারি হয়েছে Curfew, বন্ধ বাস চলাচল, বন্ধ হয়েছে HSC পরীক্ষা-সহ সমস্ত প্রশাসনিক কার্যকলাপ। এলাকাজুড়ে টহল দিচ্ছে সেনা, পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের সংঘর্ষ বহু বছর পর এতটা ভয়াবহ রূপ নিল।
হাসিনা ঘটনার কড়া নিন্দা করে বলেন, “নিজের দেশের মানুষের উপর গুলি চালানো এক বর্বরোচিত কাজ। সেনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গুন্ডা বাহিনীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।” এদিন রাতেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, এই ঘটনার দায় সরাসরি বর্তায় ইউনুসের (Muhammad Yunus) উপর।
আরও পড়ুনঃ ধস-ভারি বৃষ্টিতে থমকে অমরনাথ যাত্রা, বিপদের মুখে শতাধিক পুণ্যার্থী
হাসিনা (Sheikh Hasina) আরও বলেন, “এই গণহত্যার বিরুদ্ধে আওয়ামি লিগ চুপ করে থাকবে না। স্বৈরাচারী শক্তিকে উৎখাতের ডাক দিচ্ছি। ইউনুসের বাড়ির সামনে গিয়ে শান্তিপূর্ণ লং মার্চ করব।” পাশাপাশি এই ঘটনার আন্তর্জাতিকীকরণ ঘটিয়ে রাষ্ট্রসংঘে তুলে ধরা হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইউনুসকে ঘিরে এর আগেও রাজনৈতিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছিল। এবার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল সেনা-নিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনার পর।
এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার এই লং মার্চের ডাক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে অভিযোগ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতাবস্থার ওপর।
