রাজনীতি
বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশন কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিধানসভার (Assembly) অধিবেশনে বিজেপির (BJP) চার বিধায়ক সাসপেন্ড (Suspended) হওয়ার পর তৈরি হওয়া উত্তেজনার রেশ এখনও কাটেনি। সোমবারের ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার অধিবেশনের শেষ দিনেও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “যাঁরা গোলমাল করেছেন, তাঁরাই আবার গিয়ে এফআইআর (FIR) করেছেন। আপনি (স্পিকার) বড় আইনজীবী। আপনি আইন অনুযায়ী যা করার করবেন।”
সোমবার বিধানসভায় হইচইয়ের জেরে সাসপেন্ড করা হয় বিজেপির চার বিধায়ক—শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh), অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), দীপক বর্মন (Deepak Barman) এবং মনোজ ওরাঁও (Manoj Oraon)-কে। সূত্রপাত অশোক লাহিড়ীর (Ashok Lahiri) ‘এক্সপাঞ্জ’ শব্দ ঘিরে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কাগজ ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ “নতুন দলের দরকার নেই” – দলবদলের জল্পনায় সরাসরি উত্তর দিলীপ ঘোষের
স্পিকার (Speaker) বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও বিধায়কদের আচরণ না বদলানোয় তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু সাসপেন্ডের পরও বিধায়করা অধিবেশন কক্ষ ছাড়তে অস্বীকার করেন। শেষমেশ মার্শালের (Marshals) সাহায্যে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই সময় মার্শালদের সঙ্গে বিধায়কদের হাতাহাতি হয়। বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, মার্শালরা তাঁদের মারধর করেছেন। খেজুরি (Khejuri) বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক (Shantanu Pramanik) হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন।
তবে তৃণমূলের (TMC) দাবি, বিধায়করাই মার্শালদের উপর শারীরিক আক্রমণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বিধানসভার কর্মীদের হাতে ব্যান্ডেজ দেখেছি। যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।” তিনি স্পিকারকে বলেন, “আপনি আইনজীবী মানুষ, নিশ্চয়ই আইনি পদক্ষেপ নেবেন।”
মঙ্গলবার বিজেপির বিধায়কেরা বিক্ষোভ দেখিয়ে অধিবেশন বয়কট করেন। শঙ্কর ঘোষ বলেন, “বিরোধীদের মারধর করার নজির আগে দেখিনি। আমরা প্রতিবাদে হাউসের বাইরে থাকছি।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্মরণ করিয়ে দেন, বিরোধী দলের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, কিন্তু তারও একটা সীমা আছে।
