অপারেশন সিঁদুর
কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে সাফল্য, কিস্তওয়ারে ‘অপারেশন ত্রাসী’-তে নিকেশ ২ জঙ্গি
ডিজিটাল ডেস্ক: কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গিদমন অভিযানে একের পর এক সাফল্য মিলছে ভারতীয় সেনার হাতে। বৃহস্পতিবার ভোরে জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার (Kishtwar) জেলার সিংপোরা (Singhpora) এলাকায় সংঘর্ষে খতম করা হল দুই জঙ্গিকে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যৌথ অভিযান চালায় সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনী। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ত্রাসী’ (Operation Trashi)। সেনা সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা নাগাদ অভিযান শুরু হয়।
প্যারা এসএফ (Para SF), ১১ আরআর (11 RR), অসম রাইফেলস (Assam Rifles) ও এসওজি (SOG) যৌথভাবে এলাকা ঘিরে ফেলে। খবর ছিল, তিন থেকে চার জন সশস্ত্র জঙ্গির একটি দল ওই এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছে। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। সেই সময় জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা জবাব দেয় সেনাও। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিকেশ হয় দুই জঙ্গি। এখনও পর্যন্ত তাদের পরিচয় জানা না গেলেও, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে বাহিনী।
Op Trashi
Contact has been established with #terrorists during a joint #operation with @JmuKmrPolice at #Chhatru, #Kishtwar today morning.
Additional troops have been inducted, and operations are ongoing to neutralize the terrorists.@adgpi@NorthernComd_IA— White Knight Corps (@Whiteknight_IA) May 22, 2025
গত ৬ মে পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই উপত্যকায় চূড়ান্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সেনা। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সন্ত্রাস দমনে একাধিক অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গত দুই সপ্তাহে মোট ৮ জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে কাশ্মীরে।
প্রসঙ্গত, পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের প্রত্যাঘাতে ভারতীয় সেনা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে চালায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তাতে পাকিস্তানের ভিতরেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যদিও পাকিস্তানের অনুরোধে ভারত সাময়িকভাবে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। তবে জঙ্গি দমনে অভিযান চলবে বলেই সেনা সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে, পহেলগাঁও হামলায় জড়িত মূল চক্রের সদস্যরা এখনও অধরা। তাদের সন্ধানে গোটা উপত্যকায় চলছে তল্লাশি। সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনী জানিয়েছে, কাশ্মীর উপত্যকা থেকে সন্ত্রাসের গোড়াপত্তন সম্পূর্ণরূপে মুছে না ফেলা পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
