ভাইরাল খবর
মুখ্যমন্ত্রীর বারুইপুর সফরের আগেই পুলিশের বড় সাফল্য! গণপিটুনি মামলায় গ্রেপ্তার আরও ৩ অভিযুক্ত
ডিজিটাল ডেস্কঃ বারুইপুরে (Baruipur) গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে আজ দেখা করতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সফরের আগেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ (Police) আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এর ফলে গণপিটুনির ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ। ধৃতদের শনিবার আদালতে (Court) তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত রবিবার সূর্যপুর (Suryapur) এলাকার একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাকে গণধর্ষণের (Gangrape) পর খুন (Murder) করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় সন্দেহের বশে স্থানীয় অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। গণপিটুনির মামলায় প্রথমে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর শুক্রবার রাতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, রেল অবরোধ (Rail Blockade) এবং আইনশৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগেও একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
সরকারি সূচি অনুযায়ী, আজ প্রথমে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি যাবেন নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথাও শুনবেন। পরে সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির (Police Outpost) উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ইন্দ্রজিতের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বাড়ির সামনে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে পরিবারের হাতে বিশেষ সহায়তাও তুলে দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তদের আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে (Encounter)। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় সে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাল্টা গুলি চালানো হয়। তবে ওই এনকাউন্টারের তদন্ত আলাদাভাবে সিআইডি (CID) করছে। এদিকে ফরেন্সিক (Forensic) বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছেন। বারুইপুরের এই দুই ঘটনার তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে।
