বিশ্বের খবর
ডুরান্ড লাইনে যুদ্ধ বিরতি? চিনের মধ্যস্থতায় বৈঠকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ডিজিটাল ডেস্ক: একদিকে ডুরান্ড লাইনে (Durand Line) চলছে কামানের গর্জন, অন্যদিকে চিনের উরুমকিতে চলছে আলোচনার টেবিল। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক সংঘাত (Military Conflict) নিরসনে শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে চিন। বৃহস্পতিবার থেকে চিনের শিনজিয়াং প্রদেশে দুই দেশের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক (Diplomatic Meeting) শুরু হয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান বাহিনী ‘অপারেশন গজব লিল হক’ (Operation Gazab-lil-Haq) শুরু করেছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানে লুকিয়ে থাকা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি (TTP) জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে আফগান তালিবানের অভিযোগ, পাক যুদ্ধবিমানের (Fighter Jets) হামলায় একাধিক হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অন্তত ৫৩টি পয়েন্টে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে।
চিনের এই সক্রিয়তার (Activism) নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমীকরণ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন, যার পরেই এই ত্রিপাক্ষিক আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়। এর আগে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবে চার দফা বৈঠক হলেও সীমান্তে উত্তেজনার (Tension) আঁচ কমেনি। উল্টে নাঙ্গরহর ও পকতিকা প্রদেশে বোমাবর্ষণের পর তালিবান প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধের ফলে সীমান্তে চরম মানবিক সংকট (Humanitarian Crisis) তৈরি হয়েছে, ঘরছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। চিনের শিনজিয়াংয়ের এই বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস (Cross-border Terrorism) দমন এবং স্পর্শকাতর সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এখন দেখার, চিনের এই হস্তক্ষেপে ডুরান্ড লাইনের বরফ কতটা গলে।
