দুর্ঘটনা
সরকারি হাসপাতালের ICCU-তে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৮ জনের মৃত্যু, কাঠগড়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, তদন্তের দাবি
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজস্থানের জয়পুরের একটি সরকারি হাসপাতালে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা (terrible accident)। জয়পুরের সোয়াই মান সিং (SMS) সরকারি হাসপাতালের আইসিসিইউ-তে (ICCU) রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু আহত। গুরুতরভাবে জখম পাঁচজন রোগীর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
জয়পুরের পুলিশ কমিশনার বিজু জর্জ জোসেফ সোমবার সকালে জানিয়েছেন, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ (actual cause) এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক অনুমান, একটি শর্ট সার্কিট (short circuit) থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
SMS হাসপাতালের আইসিসিইউ-এর ইনচার্জ অনুরাগ ঢাকাদ জানান, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ট্রমা আইসিসি সেন্টার (Trauma ICC Centre)-এ ৩৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। গভীর রাতে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই দম বন্ধ করা গ্যাস (suffocating gas) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আইসিসিইউ কক্ষের ভেতরে। এর ফলে রোগীদের উদ্ধার কাজে (rescue work) কিছুটা বিলম্ব হয়। এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে (challenging situation) আইসিসিইউ-এর চিকিৎসক, নার্স এবং ওয়ার্ডবয়রা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে রোগীদের দ্রুত অন্য ওয়ার্ডে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেন। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ছয়জন রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও জনরোষ (political and public outrage)। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা অশোক গহলত (Ashok Gehlot) অবিলম্বে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের (judicial investigation) দাবি জানিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের (super specialty hospital) আইসিসিইউ-তে কিভাবে আগুন লাগতে পারে। কার গাফিলতিতে (negligence) এই বিপর্যয় ঘটল, তা রাজ্যবাসীর জানার অধিকার আছে এবং অপরাধীর কঠোরতম শাস্তি (punishment) দাবি করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মৃত রোগীদের পরিজনেরাও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত (full investigation) দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি (memorandum) জমা দিয়েছেন। তাদের নির্দিষ্ট অভিযোগ, হাসপাতালে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা (fire fighting system) প্রায় ছিলই না। এছাড়াও, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের উন্নত স্থানান্তরের (improved transfer) ব্যবস্থা না থাকায় এতগুলো প্রাণহানি ঘটেছে। একটি সরকারি হাসপাতালের এমন দুরবস্থা (plight) নিয়ে রোগীরা গুরুতর অভিযোগ (serious complaints) তুলেছেন।
তবে এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজস্থান সরকার কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া (official reaction) জানায়নি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেউই এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি।
