রাজ্যের খবর
ধস কাটিয়ে খুলল পাহাড়ের রাস্তা, সমতলে নামার হিড়িক পর্যটকদের
ধস ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে স্বস্তি ফিরল সোমবার। দার্জিলিং-শিলিগুড়ি রাস্তা চালু, পর্যটকেরা ফিরছেন সমতলে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে যাচ্ছেন পরিস্থিতি পর্যালোচনায়।
প্রবল দুর্যোগে (disaster) বিধ্বস্ত হয়েছিল উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। পুজোর (Durga Puja) সময় পাহাড়ে (Hills) পর্যটকদের (Tourists) ভিড় থাকে চরম পর্যায়ে, আর ঠিক সেই সময়েই ভারী বৃষ্টিপাত (heavy rainfall) এবং ধস (landslide) নামায় বহু মানুষ দার্জিলিংয়ে (Darjeeling) আটকে পড়েন। রবিবার পর্যন্ত পাহাড়ের একাধিক জায়গায় অব্যাহত ছিল প্রবল বৃষ্টি, যার ফলে দার্জিলিং-শিলিগুড়ি (Siliguri) সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
তবে সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। দার্জিলিং যাতায়াতের মূল রাস্তা এখন পরিষ্কার। ফলে একদিকে যেমন আটকে থাকা পর্যটকেরা সমতলে ফিরতে পারছেন, তেমনি নতুন করে কেউ চাইলে পাহাড়েও যেতে পারবেন।
তবে প্রশাসনের নির্দেশে (Administration) এখনও টাইগার হিল (Tiger Hill) এবং রক গার্ডেন (Rock Garden) এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (Alipore Meteorological Department) সূত্রে জানা গেছে, দার্জিলিংয়ে ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ মিলিমিটার (mm) বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিরিক (Mirik) এলাকা।
রবিবার ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (National Highway 10) ধসের কারণে সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে দার্জিলিং শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) শোকপ্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ক্রমাগত প্রশাসনিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। রবিবার তিনি ভার্চুয়ালি (Virtually) পাঁচ জেলার জেলাশাসকদের (District Magistrates) সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সোমবার নিজে উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে।
এদিকে সোমবার সকাল থেকেই দার্জিলিংয়ের আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। মেঘ সরে গিয়ে রোদের দেখা মিলতেই, পাহাড় থেকে সমতলে (Plains) ফিরতে শুরু করেছেন আটকে থাকা পর্যটকেরা। অনেকেই বলছেন, “এই বৃষ্টি আমাদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল, এখন স্বস্তি।”
