দেশের খবর
সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে ৪১৯২ মামলা! সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ সাংসদ, বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপরাধমূলক মামলা (Criminal Cases) নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান উঠে এল সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক হলফনামায়। আদালত-নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি (Amicus Curiae) তথা প্রবীণ আইনজীবী বিজয় হানসারিয়ার জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে মোট ৪১৯২টি মামলা এখনও বিচারাধীন।
হলফনামা অনুযায়ী, ৫৪৩ সদস্যের লোকসভায় ২৫১ জন সাংসদের বিরুদ্ধে অপরাধ মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের (Serious Criminal Cases) অভিযোগ রয়েছে, যে মামলায় পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে। রাজ্যসভার ২৩৩ সদস্যের মধ্যে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ মামলা রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, ২৮টি রাজ্যের ১৪ জন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপরাধ মামলার কথা ঘোষণা করেছেন। তালিকায় তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ২৯টি এবং কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিধায়কদের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান উল্লেখযোগ্য। ২৯৩ জন বিধায়কের মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বিচারাধীন বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালে সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে ১২৪৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই বছরে নতুন করে ১০৫০টি মামলা দায়ের হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
রিপোর্টে বিভিন্ন রাজ্যের সাংসদদের বিরুদ্ধেও অপরাধ মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। কেরলের ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তেলেঙ্গানায় ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন, ওড়িশায় ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং ঝাড়খণ্ডে ১৪ জনের মধ্যে ১০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির (Speedy Trial) জন্য বিশেষ আদালতকে আরও সক্রিয় করার সুপারিশ করা হয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলাগুলির উপর হাইকোর্টগুলিকে বিশেষ নজরদারি চালানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৯ নভেম্বরও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টগুলিকে সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা পাঁচ হাজারের বেশি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। এবারও দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
