Connect with us

বিবিধ

দেবশিল্পী থেকে বিশ্ব কারিগর হয়ে ওঠার কাহিনী

Dipa Chakraborty

Published

on

ঋজু রায়চৌধুরী , ১৬ সেপ্টেম্বর :  রাত পোহালেই বাঙালির উৎসব বিশ্বকর্মা পুজো। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তিতে উদযাপিত হয় বাঙালির উৎসব বিশ্বকর্মা পুজো। স্বর্ণকার, কর্মকার, দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মের সাথে যুক্ত সমস্ত ব্যক্তিগণ বিশ্বকর্মা পুজোয় সামিল হন। কিন্তু জানেন কি, কে এই বিশ্বকর্মা ?

পুরাণ বলছে বিশ্বকর্মা হলেন স্বর্গলোকের বাস্তুকার যাকে আমরা সহজ কথায় বলি ইঞ্জিনিয়ার। বিশ্বকর্মা শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘সর্বস্রষ্টা’। বিশ্বকর্মার উল্লেখ পাওয়া যায় ঋকবেদের দশম মন্ডলে ৮১ ও ৮২ সূক্তদ্বয়ে। ঋক বেদ অনুযায়ী তিনি সর্বদর্শী এবং সর্বজ্ঞ। তার চোখ, মুখমণ্ডল, বাহু ও পদযুগল সমস্ত পৃথিবীতে পরিব্যপ্ত হয়ে আছে। কোথাও কোথাও বিশ্বকর্মা কে প্রজাপতি রূপেও কল্পনা করা হয়েছে। রামায়ণে একাধিক জায়গায় বিশ্বকর্মার উল্লেখ পাওয়া যায়। আদিকাণ্ড রয়েছে, বিশ্বকর্মা দুটি ধনুক নির্মাণ করেছিলেন। তার মধ্যে একটি ত্রিপুরাসুর বধের জন্য দেবাদিদেব মহাদেব কে দিয়েছিলেন, এবং অপরটি শ্রী বিষ্ণু কে প্রদান করেছিলেন। ভগবান বিষ্ণু সেই ধনুক পরশুরাম কে দিয়েছিলেন। আবার শিবের ধনুক টি শ্রীরামচন্দ্র ভঙ্গ ক’রে সীতাকে বিবাহ করেন, এবং পরশুরামের ধনুক টিতে জ্যা আরোপ করে পরশুরামের দর্প চূর্ণ করেন।

বিশ্বকর্মা কে দেবশিল্পী ও বিশ্ব কারিগর বলা হয়। তিনি দেব-দেবীদের অস্ত্র, তাদের বাসস্থান তৈরি করেন। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য ভগবান শ্রী বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকের শক্তি তিনি নির্মাণ করেন। মহিষাসুর বধের সময় দেবী দুর্গাকে অভেদবর্ম বানিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকর্মা। শুধু তাই নয়, কথিত আছে পুরীতে জগন্নাথ দেবের মূর্তি তিনিই নির্মাণ করেন।

শুধু তাই নয় বিশ্বকর্মা লংকা নগরীর নির্মাতা। রামায়ণে উল্লিখিত বিশ্বকর্মা স্থাপত্যকীর্তি গুলি হলঃ কুঞ্জর পর্বতে ঋষি অগস্তের ভবন, কৈলাস পর্বতে অবস্থিত কুবেরের অলকাপুরী, লঙ্কা নগরী ইত্যাদি। ব্রহ্মা যে পুষ্পক বিমান ব্যবহার করতেন এবং যে পুষ্পক বিমান এর উল্লেখ রামায়ণ রয়েছে তাও বিশ্বকর্মার তৈরি। এছাড়া শ্রীবিষ্ণুর পাঞ্চজন্য শঙ্খ, সুদর্শন চক্র ও কৌমদকী নামে গদাও বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেন।

Advertisement
ads

তাই বিশ্বকর্মা কে শুধু দেবশিল্পী বলে একটিমাত্র গুণ উল্লেখ করলে তা সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি এই বিশ্বের স্রষ্টা, জগত সংসারে কর্মসংস্কৃতির তিনি ধারক ও বাহক। যেকোনো কর্মঠ ব্যক্তি তাই বিশ্বকর্মার প্রতি সমর্পিত হন। ঋকবেদে বিশ্বকর্মা কে বাচস্পতি, মনোজব, কল্যাণকর্মা ও বিধাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্বকর্মা পুজো। বিভিন্ন কারখানা, গ্যারেজ, ফ্যাক্টরি, অফিস এবং ঘরে ঘরে পূজিত হবেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা।